শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
জাতীয় ডেস্ক: মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার এবং কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করার জন্য সরকারের একার প্রচেষ্টার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও এগিয়ে আসার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নোয়াখালীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, অপরাধী ও মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই সামাজিক বা রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। মূলত সামগ্রিক সমাজব্যবস্থাকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করার লক্ষ্যেই সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল জলিল মিলনায়তনে আয়োজিত একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই বার্তা দেন জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে অপরাধের মাত্রা কমানো সম্ভব হলেও তা সম্পূর্ণ নির্মূল করার জন্য সামাজিক সচেতনতা অপরিহার্য। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে এই লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি এবং কিশোর অপরাধের বিস্তারকে সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ বলেন যে, এর ক্ষতিকর প্রভাব কেবল একজন ব্যক্তির ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং গোটা পরিবার ও রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে সন্তানদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করা, তাদের বন্ধু নির্বাচন সম্পর্কে খেয়াল রাখা এবং তাদের সাথে পর্যাপ্ত সময় কাটানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে অনুষ্ঠানে বলা হয় যে, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক বা পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত কাউন্সিলিং এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা বিপথগামী না হয়। আজকের নবীন শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার মূল দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তাই তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলার বীজ বপন করতে হবে।
নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলামসহ কলেজের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও শিক্ষকবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।