শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
পিঁপড়ারা কখনো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় না কেন নিজেই বক্স ক্যামেরা বানিয়ে বদলে যাওয়া ঢাকার ছবি তুলেছেন এই আলোকচিত্রী মশা দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ, রাস্তায় মশারি টানিয়ে অবস্থান চার তরুণীর ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ স্টারলিংক নিয়ে মুকেশকে খোঁচা ইলন মাস্কের বিশ্বাসের বাজারে সব মাল ভেজাল মানসিক রোগের ওষুধ নিয়ে এই ৫টি ভুল ধারণা আপনার মধ্যেও আছে? এক মন্দিরেই ১০১ প্রতিমা, ৪ যুগের কাহিনিতে সাজছে ব্যতিক্রমী পূজামণ্ডপ সিম্পসন’স প্যারাডক্স: যখন পরিসংখ্যান মিথ্যা না বলেও ধোঁকা দেয় মানসিক স্বাস্থ্য: যাদের কথা শোনা জরুরি সৌরবিদ্যুতে চলবে এসি, ফ্রিজ ও ওয়াশিং মেশিন, নতুন ব্যবস্থা চালু করল ওয়ালটন

এক মন্দিরেই ১০১ প্রতিমা, ৪ যুগের কাহিনিতে সাজছে ব্যতিক্রমী পূজামণ্ডপ

জাতীয় ডেস্ক: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যশোর শহরতলির চাঁচড়া বর্মণপাড়া শ্রীহরি মন্দিরে নেওয়া হয়েছে এক অভূতপূর্ব উদ্যোগ। এই মন্দিরের এক ছাদের নিচে তৈরি করা হয়েছে মোট ১০১টি ছোট-বড় প্রতিমা, যা চার যুগের ধর্মীয় ও পৌরাণিক উপাখ্যানের এক অপূর্ব সমাহার তুলে ধরেছে। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি—এই চার যুগের নানা রূপ ও চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে মৃৎশিল্পীরা টানা দুই মাস ধরে নিপুণ হাতে কাজ করেছেন। মণ্ডপটিতে সরস্বতী, শিব, রাধা-কৃষ্ণ, রাম-সীতা, হনুমান থেকে শুরু করে নানা দেব-দেবী ও পৌরাণিক চরিত্রের দেখা মিলবে। কাঁচা মাটির কাঠামোয় প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর এখন শেষ মুহূর্তের রঙের কাজ চলছে, যা দেখতে উৎসবের আগেই দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন।

মন্দির কর্তৃপক্ষের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো সনাতন ধর্মের নতুন প্রজন্মকে তাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া। বর্মণপাড়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমুল বর্মণ জানান, বর্তমান বিশ্বজুড়ে চলমান অশান্তির মাঝে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতেই এই থিম নির্বাচন করা হয়েছে। সনাতন ধর্মের চার যুগে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যেভাবে বিভিন্ন রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন, সেই ভাবটিই এখানে প্রতিমার রূপান্তরের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিপ্রা বর্মন ও দীপঙ্কর বর্মন জানান, নিজেদের গ্রামে এমন একটি বর্ণিল আয়োজন দেখতে পাওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার পূরণ হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মকে আমাদের ইতিহাস শিখতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।

চাঁচড়ার এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের পাশাপাশি জেলার আটটি উপজেলায় এবার মোট ৭৪৩টি মন্দির ও মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হতে যাচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদ যশোরের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ২৮টি বেশি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে মণ্ডপগুলোতে ডিজে বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে কেবল ভক্তিগীতি বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি মন্দিরের সুরক্ষায় হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নিয়ে বিশেষ সম্প্রীতি কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

উৎসবের দিনগুলোতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ঝুঁকি বা আশঙ্কার অবকাশ নেই এবং সম্পূর্ণ শঙ্কাহীন পরিবেশে ভক্তরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে যশোরের প্রতিটি পূজা মণ্ডপে এখন সাজসাজ রব বিরাজ করছে এবং কারিগর ও আয়োজকরা তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার অন্তিম মহড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: