রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
রাজনীতি ডেস্ক: কুষ্টিয়ায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তাঁর দাবি, প্রতিটি ডিলারশিপ বরাদ্দের বিপরীতে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কুষ্টিয়া সুগার মিল চালুর দাবিতে আয়োজিত একটি জনসমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়মের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংসদ সদস্য আমির হামজা জানান, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানতে পেরেছেন যে কুষ্টিয়া সদরের চৌদ্দটি সার ডিলারশিপই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ কমিটিকে লোক দেখানো বা আইওয়াশ করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসানের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে তাঁরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এই সংসদ সদস্য। পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
তবে সংসদ সদস্যের আনীত এই দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান। তিনি দাবি করেন, সার ডিলার নিয়োগ কমিটি সম্পূর্ণ সততা, স্বচ্ছতা এবং নিয়ম মেনে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। যদি সংসদ সদস্য তাঁর এই অভিযোগের কোনো উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকার কুষ্টিয়া সুগার মিলসহ বেশ কয়েকটি বন্ধ বা অলাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং বন্ধ কুষ্টিয়া সুগার মিল অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চালুর দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। মিল গেট এলাকায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসাইনসহ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, অতীতের মতো সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই মিলটিকে পুনরায় একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব।