রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর একের পর এক বাণিজ্য-প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে চলেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ও নিয়মনীতিকে পাশ কাটিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশি পাটপণ্যের ওপর টনপ্রতি অতিরিক্ত শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা এই খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শুল্ক কার্যকর থাকার পরও একই পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বসানোর এই প্রবণতা বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং প্রতিবেশী দেশটির বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট করে তুলছে।
বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি পাটপণ্যে সর্বোচ্চ প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতের বাণিজ্য প্রতিকারবিষয়ক মহাপরিচালক বা ডিজিটিআর বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পাটপণ্যের ওপর পাঁচ বছরের জন্য কাউন্টারভেইলিং ডিউটি বা সিভিডি আরোপের সুপারিশ করে। পাশাপাশি পাটপণ্যের প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত পিইটি ফিল্মের ক্ষেত্রেও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের প্রস্তাব করা হয়, যার ফলে এই পণ্যগুলোর ওপর সামগ্রিক অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অ্যান্টি-ডাম্পিং এবং সিভিডি একসঙ্গে সর্বোচ্চ হারে কার্যকর হলে প্রতি টন পণ্যে অতিরিক্ত ৫৮৫ ডলার পর্যন্ত শুল্কের খড়গ নেমে আসবে। এর ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পাটের সুতা, হেসিয়ান কাপড় এবং বস্তার দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতাসক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেবে। বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের সদস্য এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক এই পদক্ষেপগুলোকে একপেশে ও জবরদস্তিমূলক বলে অভিহিত করে দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
এদিকে একই পণ্যের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বলবৎ থাকা সত্ত্বেও ভর্তুকির অভিযোগে সিভিডি আরোপের এই উদ্যোগকে ডাবল রেমেডি বা দ্বৈত প্রতিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘন করে নেওয়া এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ডিজিটিআরের কাছে লিখিত আপত্তি জানিয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছে। তা ছাড়া, ভারত কেবল শুল্ক বাড়িয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং স্থলবন্দর দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পাটপণ্য আমদানির ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।