সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
রাজনীতি ডেস্ক: দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারিসহ কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কেউ জড়ালে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের বিশেষ বৈঠকে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদেরও কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে থাকার কড়া নির্দেশ দেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় দলের নাম ব্যবহার করে অপতৎপরতার অভিযোগ ওঠার পর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন কঠোর বার্তা দেওয়া হলো। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় এবং সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রধানমন্ত্রী কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বৈঠকের আলোচনায় স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতা ও নানা অনিয়মের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, অনেক জেলা ও উপজেলা স্তরের কর্মকর্তারা জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ মূল্যায়ন করেন না এবং উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের এড়িয়ে চলেন। এমনকি সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্যরা বলেন, অনেক এলাকায় যোগ্য নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও বৈঠকে জোরালো অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
এমপিদের এসব বক্তব্য ও অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করার এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ক্ষমতার মোহে দল ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের ভুলে গেলে চলবে না এবং জনগণের সুখ-দুঃখের কথা শুনে তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। এছাড়া বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরোধীদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধিদের আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন সরকারপ্রধান। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিজেরা নিষ্ক্রিয় থাকলে ফাঁকা মাঠে অন্যরা সুযোগ নেবে, তাই সত্য তথ্য তুলে ধরে জনগণের মাঝে সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং শিক্ষা খাতের নানা সংকট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে প্রচলিত আইনের পাশাপাশি আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান সংসদ সদস্যরা। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংকট, যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতাকর্মীদের সহজে জামিন পাওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় স্থান পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এ সময় সবাইকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, সরকারের কোনো নেতাকর্মীর অপকর্মের দায় দল বা সরকার নেবে না।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই বিশেষ সংসদীয় বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের জানান, মূলত সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের সব কথা শুনেছেন এবং বিগত আট মাসের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। চিফ হুইপ আরও বলেন, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী এবং চাঁদাবাজদের বিএনপিতে কোনো স্থান নেই এবং অপরাধ করে কেউ পার পাবে না মর্মে প্রধানমন্ত্রী কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আগামী সংসদ অধিবেশν শুরুর আগে আয়োজিত এই বৈঠক সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।