সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

লাকসাম-চট্টগ্রামের ২০ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে উন্নীত হচ্ছে

জাতীয় ডেস্ক: রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত কুড়ি কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজ ডবল ট্র্যাকে রূপান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করেছে। মূলত এই রেলপথে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি করা এবং যাত্রীদের যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশের প্রধান এই রেল করিডোরের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন অনুযায়ী, সরকারি তহবিল থেকে দুই হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। বাকি অর্থায়ন আসবে বৈদেশিক উৎস থেকে, যার মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক অর্থাৎ এডিবি এবং কোরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক যৌথভাবে প্রায় ১৪ হাজার ১২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা প্রদান করবে। এই বিশাল বাজেটের মধ্যে কেবল সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নয়, বরং জমি অধিগ্রহণ, প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং পরামর্শক সেবার মতো খাতগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাম্প্রতিক বৈঠকে পরিবেশগত সুরক্ষা এবং নির্মাণকাজের বিভিন্ন ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্রডগেজ ট্রেনের নকশাগত গতি প্রতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার এবং মিটারগেজ ট্রেনের গতি ১০০ কিলোমিটারে উন্নীত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এই রেলপথে কনটেইনার পরিবহনের হার বর্তমানের চার শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা-টঙ্গী ও আখাউড়া-লাকসাম অংশ ইতিপূর্বে ডবল লাইনে উন্নীত হওয়ার পর, লাকসাম-চট্টগ্রামের এই অংশ ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত হলে তা সরাসরি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের রেল সংযোগের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে মাতারবাড়ী বন্দর থেকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও দ্রুততর হবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ট্রান্স এশিয়ান রেলপথের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপন সহজতর হবে। এর মাধ্যমে নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন সম্প্রসারণের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এছাড়া লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম স্টেশন ইয়ার্ড পর্যন্ত ১৩১.২০ কিলোমিটার মিটারগেজ ডবল ট্র্যাক ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হলে সামগ্রিক পরিবহন চাপ কমে আসবে। এর ফলে লাকসামের পাশাপাশি নোয়াখালী, চাঁদপুর ও সিলেট অঞ্চলের যাত্রীরাও উন্নত রেল যোগাযোগের সুফল ভোগ করবেন।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান যে রেলকে আধুনিকীকরণের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি। রেলওয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় স্টেশন মাস্টাররাও আশা প্রকাশ করেছেন যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ হবে। বর্তমান সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: