শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রতিনিধি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্প্রতি জাপানের রাজধানী টোকিওতে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি ছিল দুই দেশের মধ্যকার দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ। ২০২১ সালে মিয়ানমারে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এতদিন দেশটির জেনারেলদের একরকম এড়িয়ে চলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক বরফ গলে যাওয়ায় ওয়াশিংটন এখন জান্তা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই গোপন বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল ভ্যান্সের নেতৃত্বে এক ডজনেরও বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন বলে জানা গেছে। তবে এই কূটনৈতিক বৈঠকে ঠিক কী ধরনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে উভয়পক্ষই সম্পূর্ণ মুখ বন্ধ রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কিংবা জাপানি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতেও দুই পক্ষের মধ্যে আরেকটি গোপন বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে মূলত এক মার্কিন ব্যবসায়ীর মুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অবৈধ অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রগুলো বন্ধ করার বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই আলোচনার ধারাবাহিকতাতেই মিয়ানমারের মূল্যবান বিরল খনিজ সম্পদ আহরণ এবং অন্যান্য ভূরাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি ও আধুনিক প্রযুক্তি পণ্য তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রগুলোর বড় অংশই সেনাবাহিনী-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। এসব অবৈধ ব্যবসার লভ্যাংশের বড় একটি অংশ সরাসরি সামরিক বাহিনীর পকেটে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে জান্তা সরকার এগুলো বন্ধে কতটা আন্তরিক তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া, দেশটির যেসব অঞ্চলে বিরল খনিজ সম্পদ রয়েছে, সেখানে বর্তমানে বিদ্রোহী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর তীব্র লড়াই চলছে।
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা এবং খনিজ সম্পদের বাজারে প্রবেশাধিকারের চেষ্টা নিয়ে বেইজিংয়ের আপত্তির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, বর্তমানে মিয়ানমারের খনিজ সম্পদের প্রধান ক্রেতা হিসেবে চীন একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার লোয়ি ইনস্টিটিউটের গবেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের পাশাপাশি জাপানও মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে।