শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
সাগরপাড়ের কাঠ বা বাঁশের রিসোর্টে ছুটি কাটাবেন? বুকিংয়ের আগে এই ৮ বিষয় অবশ্যই যাচাই করুন বিদেশে কোনো ফল নেওয়া যায় না কেন ইউনিগ্লোবাল: বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে যে প্রতিষ্ঠান বাহুবলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা কীভাবে তৈরি হয় নানা রঙের আতশবাজি বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমঞ্চে: এডুকেশন কানেক্ট গ্লোবালের পথচলা রেকর্ড ব্যবসা রেনাটা ফার্মার, মুনাফা বেড়েছে ১৪২ কোটি টাকা প্রেমের টানে চীনা যুবক মাদারীপুরে, ধর্মান্তরিত হয়ে করতে চান বিয়ে পদত্যাগ করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম সাবেক যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয়ের জমি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

কীভাবে তৈরি হয় নানা রঙের আতশবাজি

ডেস্ক রিপোর্ট: উৎসব-পার্বণ কিংবা আনন্দের মুহূর্তে আকাশ রাঙিয়ে তোলা রঙিন আতশবাজির পেছনের রহস্য লুকিয়ে রয়েছে মূলত পরমাণুর গঠনশৈলীর মধ্যে। সাধারণ চোখে একটি আতশবাজি কেবলই বারুদ আর আলোর ফোয়ারা মনে হলেও, এর নেপথ্যে কাজ করে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের এই অদ্ভুত মিশ্রণ ছাড়া রাতের আকাশে এমন লাল, নীল বা সবুজের বাহার ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব ছিল।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিটি পদার্থই ক্ষুদ্রতম কণা পরমাণু দিয়ে গঠিত। পরমাণুর মূল গঠনতন্ত্রে থাকে ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। এর মধ্যে ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন ও আধানহীন নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াসের ভেতর আবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে, ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট শক্তির স্তরে বা কক্ষপথে সর্বদা প্রদক্ষিণ করতে থাকে।

যখন আতশবাজিতে আগুন দেওয়া হয়, তখন প্রচণ্ড তাপশক্তির প্রভাবে এই ইলেকট্রনগুলো উত্তেজিত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত শক্তি শোষণ করার কারণে ইলেকট্রনগুলো তাদের স্বাভাবিক শক্তির স্তর ছেড়ে সাময়িকভাবে উচ্চতর শক্তির স্তরে লাফিয়ে চলে যায়। তবে এই উচ্চ শক্তিস্তরে ইলেকট্রনগুলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারে না এবং তা আবার নিজের আগের অবস্থানে ফিরে আসে।

উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ফিরে আসার সময় ইলেকট্রনগুলো অতিরিক্ত শক্তি আলোর কণা বা ফোটন হিসেবে ত্যাগ করে। ঠিক কোন মৌল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তার ইলেকট্রনগুলো কী পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করছে, তার ওপর ভিত্তি করে আলোর রঙ নির্ধারিত হয়। যেমন সোডিয়ামের জন্য হলুদ আর স্ট্রনসিয়ামের কারণে লাল রঙের বর্ণালী তৈরি হয়।

এভাবেই নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক মৌল ও ধাতুর নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে আতশবাজিতে পছন্দসই রঙের পসরা সাজানো হয়। প্রাচীন কাল থেকে শুরু করে আধুনিক বিজ্ঞান যুগেও আতশবাজি তৈরির এই মৌলিক নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিবার যখন আকাশে কোনো বর্ণিল বিস্ফোরণ ঘটে, তখন মূলত পরমাণুর ভেতরে চলা শক্তির এই রূপান্তরকেই আমরা খালি চোখে উপভোগ করি।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: