রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন
অর্থনীতি ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ সামগ্রিকভাবে যে পরিমাণে পোশাক আমদানি কমিয়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি হ্রাসের হার প্রায় তিন গুণ বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে এই নেতিবাচক প্রবণতা দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতটির জন্য এক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক শ্লথগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সেখানকার ক্রেতারা পোশাকের পেছনে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। তবে সার্বিক আমদানির চেয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বেশি হারে কমে যাওয়ার পেছনে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কিছু প্রতিযোগিতামূলক কারণও কাজ করছে। বিশেষ করে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রপ্তানিকারকদের চাপে ফেলে দিয়েছে।
এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে। সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ কমলেও ঠিক একই সময়ে ইউরোপের বাজারে চীনের তৈরি পোশাকের রপ্তানি উল্টো বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর এই আগ্রাসী বাজার দখল বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সামনে নতুন করে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
দেশের পোশাক শিল্প মালিক ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাজারে এই টিকে থাকার লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের বহুমুখীকরণ জরুরি। সেই সঙ্গে ইউরোপীয় ক্রেতাদের মনস্তত্ত্ব ও চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে এই বাজার হারানোর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।