রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
জাতীয় ডেস্ক: বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। এখানকার মোট ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে ৩৮টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। মূলত নিয়মিত নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকা এবং শিক্ষকদের অবসরজনিত বিদায়ের কারণে এই শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তাঁদের এখন শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান করানোর পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ, সভা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঠিক সমন্বয় রক্ষা, তদারকি এবং সরকারি নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দাপ্তরিক কাজের জন্য তাদের প্রায়শই উপজেলা বা জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়, যা বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাদান প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দাপ্তরিক কাজ ও মিটিংয়ের পেছনে অনেক সময় ব্যয় হওয়ায় ক্লাসের শিডিউল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বাইরে গেলে অন্য শিক্ষকদের ওপর বাড়তি ক্লাস নেওয়ার চাপ তৈরি হয়। জানা যায়, এর আগে ২০১৮ সালে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তারা এখনো পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাননি। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিদ্যালয়গুলোতে নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল এই অচলাবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান ধরে রাখতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। এই সংকট দীর্ঘায়িত হতে থাকলে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার মান আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তা স্থানীয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাজীবনকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করেন তারা।
সার্বিক বিষয়ে আলীকদম উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন জানান যে প্রধান শিক্ষকহীন বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নীতিনির্ধারণী মহলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রত্যাশা করছেন।