রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন

চলতি অধিবেশনেই বাংলাদেশ সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি পাসের উদ্যোগ, কার্যকর আগামী বছরের প্রথমার্ধে

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এবং এই অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ চলতি সংসদ অধিবেশনেই পাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি, যা তৈরিতে কারিগরি ও আইনি ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়েছে জাপানি পক্ষ। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা অনুযায়ী, সমস্ত অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে।

জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়েই স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তরণ ঘটতে যাচ্ছে। এই উত্তরণের পর উন্নত বিশ্বের বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রচলিত শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে জাপানের সঙ্গে সম্পাদিত এই বিশেষ অর্থনৈতিক চুক্তি কার্যকর হলে এলডিসি পরবর্তী সময়ে নতুন আরোপিত শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং এটি কার্যকর করতে উভয় দেশের পার্লামেন্টে অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চুক্তিটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে জাপান থেকে আমদানি করা গাড়ির ইঞ্জিন ও টায়ারের ওপর বিদ্যমান শুল্ক আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ থেকে জাপানি বাজারে প্রবেশ করা তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের ওপর থেকেও সব ধরনের শুল্ক মওকুফ করা হবে, যার ফলে এলডিসি উত্তরণের পরও জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাম প্রতিযোগিতামূলক থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির নেপথ্যে কেবল বাণিজ্যিক সুবিধা বৃদ্ধিই নয়, বরং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য রয়েছে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেশ শক্তিশালী এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অবকাঠামো উন্নয়নেও বেইজিংয়ের সহযোগিতা বাড়তির দিকে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে টোকিওর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানসম্মত এই চুক্তির খসড়া তৈরিতে সহায়তা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ঢাকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: