মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন
রাজনীতি ডেস্ক: রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন। তাঁর এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের মেয়াদে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল ও পদত্যাগের আরেকটি ঘটনা ঘটল। সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক দাবি করেন, সরকারের কোনো কর্মকাণ্ড বা দল যেন তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়ের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সেজন্য তিনি নিজ থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন।
এর আগে গেন্ডারিয়া এলাকার রেললাইন সংলগ্ন স্থানে অস্ত্র হাতে ইশরাকের অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে অভিযান চালাতে পারেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। তবে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে ইশরাক জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও মাদকের উপদ্রব ঠেকাতে তিনি ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্রটি সঙ্গে রেখেছিলেন এবং অভিযানের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশকেও অবহিত করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে ইশরাক অভিযোগ করেন, তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পুরো ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। মাদক নির্মূলের মহৎ উদ্দেশ্য থেকে সবার দৃষ্টি ভিন্ন খাতে সরিয়ে নিতে একটি কল্পকাহিনি তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দল বা দলের প্রধান তারেক রহমান চাইলে তিনি আগামীতে নির্বাচনে অংশ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল ও পদত্যাগের ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এবং অন্য বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন ঘটনায় নাম আসায় পদত্যাগ করেছেন। ইশরাক হোসেনের এই পদত্যাগের মাধ্যমে সরকারের ভেতরকার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং জনপ্রতিনিধিদের আচরণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ওই ঘটনার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।