মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন
জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ঝুলে থাকা গাজীপুর থেকে ঢাকা বিমানবন্দর পর্যন্ত বহুল আলোচিত বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে এই পুরো করিডরটিকে একটি ছয় লেনের আধুনিক সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং এর পরপরই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রকল্পের নানামুখী জটিলতা এবং জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতেই মূলত এই পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান বিআরটি প্রকল্পের জন্য তৈরি করা বিভিন্ন বাস স্টেশন এবং মাঝের লেন বিভাজকগুলো সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় পূর্বে নির্মিত দুটি দুই লেনের ওভারপাসকে চার লেনে উন্নীত করা হবে, যাতে সাধারণ যান চলাচল আরও বেশি মসৃণ ও প্রশস্ত হয়। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি কোম্পানিটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এই প্রকল্পের বাকি সব কার্যক্রম সড়ক ও মহাসড়ক অধিদপ্তরের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করা হবে বলে সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মূলত ২০১২ সালের নভেম্বরে রাজধানী ও শিল্প শহর গাজীপুরের মধ্যে দ্রুত ও আরামদায়ক গণপরিবহন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রায় সাড়ে বিশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিআরটি প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে দুই হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি ব্যয় এবং ২০১৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারিত হলেও নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, নকশায় ঘনঘন পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার পাইপলাইন স্থানান্তরের দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে দফায় দফায় সময় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ চার হাজার কোটি টাকার অধিক ছাড়িয়ে যায়।
প্রকল্পের এই দীর্ঘমেধী বাস্তবায়নের কারণে গাজীপুর থেকে টঙ্গী ও বিমানবন্দর এলাকার যাত্রীদের প্রতিদিন ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম ও চরম জনদুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত দ্রুতগতির বাস সেবা চালুর লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এবং ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় অবশেষে প্রকল্পটি বাতিলের পথ বেছে নেয় প্রশাসন। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আইনি জটিলতাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার প্রক্রিয়া চলছে। মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী পনেরো দিনের মধ্যে কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এবং পুরো কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।