বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
জাতীয় ডেস্ক: অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারীরা কেবল নিজেদের ব্যক্তিগত ভাগ্যের উন্নয়নই করেন না, বরং তারা পরিবার ও সামগ্রिक সমাজের অগ্রযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। নারীদের উপযুক্ত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে ‘বিশ্বযোগ’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলো অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। সম্প্রতি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বাঙ্গুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এই অভিমত প্রকাশ করেন। নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে তোলা এবং তাদের জন্য উপার্জনের পথ উন্মুক্ত করার উদ্দেশ্যেই মূলত এই বর্ণাঢ্য সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন যে, ‘বিশ্বযোগ’ প্রকল্পটি কেবল সীমিত কিছু নারীকে পেশাগত কাজ শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পুরো সমাজ ও জাতির ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। নারীদের হাতের কাজের অর্জিত দক্ষতা যখন তাদের জীবনে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তি নিয়ে আসবে, তখনই কেবল এই ধরনের কল্যাণমুখী কার্যক্রমের প্রকৃত সার্থকতা প্রমাণিত হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, গ্রামের সাধারণ মা ও বোনেরা তাদের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সেলাই, বুটিক, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প এবং জুয়েলারিসহ নানা বিষয়ে পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন নিজেদের দক্ষ করে তুলছেন, অন্যদিকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠে আধুনিক বাজারের সঙ্গে নিজেদের সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণের এই বিশেষ আয়োজনে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দেবিদ্বার উপজেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ শুভ, দেবিদ্বার পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রুহুল আমিন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষক সালমা ইসলাম ও সাবিহা নূর। বক্তারা নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের একটি আকর্ষণীয় পর্বে দেবিদ্বারের স্থানীয় নারীদের নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও পণ্যসামগ্রী অতিথিদের সামনে প্রদর্শন করা হয়। এই উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধান অতিথি আশা প্রকাশ করেন যে, ‘বিশ্বযোগ’ প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত এসব মানসম্মত পণ্য অচিরেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। পরিশেষে, সফলভাবে এক মাসের দীর্ঘ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ৫০ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর হাতে প্রাতিষ্ঠানিক সনদপত্র তুলে দেওয়া হয় এবং প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত প্রশিক্ষকদের সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়।