বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন
শিক্ষা ডেস্ক: বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈষম্য দূর করার দাবি উঠেছে। এই বৈষম্য নিরসনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি দুই মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আলটিমেটাম ঘোষণা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনসহ ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন স্তরে বিরাজমান নীতিগত বৈষম্য দূর করার জোরালো দাবি জানান তারা।
শিক্ষক নেতাদের প্রধান অভিযোগ হলো, একই শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হওয়া সত্ত্বেও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির নিয়মে বড় ধরনের অমিল রয়েছে। মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালায় শিক্ষকদের প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম এমপিওভুক্তির সময়কালকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। অথচ স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালায় ভিন্ন ও জটিল শর্ত থাকায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে একই যোগ্যতার পরেও প্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষকদের মধ্যে বড় ধরনের আর্থিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে যা তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করার পরও শুধু নীতিমালার জটিলতার কারণে শিক্ষকদের কাঙ্ক্ষিত গ্রেড পেতে বিলম্ব হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক বলে তারা মন্তব্য করেন।
এছাড়া উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিএড ডিগ্রিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতা ও বৈষম্যের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। শিক্ষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিএড ডিগ্রি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এই ডিগ্রির অর্জনের পরবর্তী সময়কে ভিত্তি ধরে গ্রেড দেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় যা তাদের পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষকরা দাবি করেছেন যে বিএড ডিগ্রির শর্তের কারণে সৃষ্ট এই আর্থিক বৈষম্য অবিলম্বে দূর করতে হবে। একই সঙ্গে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য একটি অভিন্ন, সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে যে তাদের এসব যৌক্তিক দাবি নিয়ে এর আগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বাধ্য হয়েই তারা নতুন করে এই দুই মাসের সময়সীমা ঘোষণা করেছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি, আগামীতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদানের জোর দাবি জানান শিক্ষক নেতারা।