শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
এইচএসসির ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর কক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোটেল ভাড়া দিলেই ব্যবস্থা, বললেন নারী সংসদ সদস্য পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চান ব্যবসায়ীরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে নতুন ‘আইডিয়া’ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির সংখ্যায় শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ সাফিয়া সাথীর সফল ফ্যাশন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প | লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ | পর্ব–১১ মামলা হলে আমাকেই যেন প্রধান আসামি করা হয়: রুমিন ফারহানা সিডনিতে কাল চালু হচ্ছে নতুন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ম্যাক্স-বিএসপিএ বর্ষসেরা ক্রীড়া সাংবাদিক রাহেনুর হাড় মজবুত করতে যে তিন ধরনের পুষ্টি জরুরি

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে নতুন ‘আইডিয়া’ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে

রাজনীতি ডেস্ক: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপদ্ধতি এবং এর সামগ্রিক রূপরেখা নিয়ে একটি নতুন ধারণা বা প্রস্তাব পাওয়া গেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে দেশের বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের এক দীর্ঘ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়। সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হলে উচ্চকক্ষ থেকে কীভাবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা সম্ভব, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপ কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

বিশেষ কমিটির সভাপতি ও মন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিভিন্ন অংশীজন ও বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। যার মধ্যে রয়েছে বিচার বিভাগের জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান নির্বਾাহী ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। এছাড়া নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের মেয়াদ যথাক্রমে চার ও ছয় বছর নির্ধারণ, ৬৪ জেলা ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রস্তাবও এসেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের জন্য নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব বিচার বিভাগের হাতে ন্যস্ত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে উত্থাপিত নতুন ধারণা অনুযায়ী, সংসদ গঠিত হলে তার উচ্চকক্ষের মেয়াদ নিম্নকক্ষের সঙ্গে শেষ না করে ভিন্নভাবে সাজানো যেতে পারে। উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি করে তাঁকে উচ্চকক্ষ বা স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া কিংবা সরকারি ও বিরোধী দলের যৌথ সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচন করার প্রস্তাব এসেছে। সেই স্পিকারকেই পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগের বিধান রাখার কথাও আলোচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রপ্রধানকে বিতর্ক বা রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রেখে সম্পূর্ণ সমঝোতার ভিত্তিতে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষা এবং আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যালোচনার ক্ষমতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তাঁদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বপ্রতিশ্রুতি থাকলেও আগের সরকারের অধ্যাদেশের ত্রুটিগুলো দূর করে নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কমিটি আশা প্রকাশ করেছে যে, সকল রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট মহলের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে একটি কার্যকর এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: