মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন

সিলেটে ২০ শ্রমিকের পরিবার পেল ১০ লাখ টাকা অনুদান

জাতীয় ডেস্ক: সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, কোনো শ্রমিকের অকালমৃত্যুতে কেবল একজন কর্মক্ষম মানুষের প্রস্থান ঘটে না, বরং পুরো পরিবার গভীর আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে। পরিবহন খাতের শ্রমিকদের এই ধরনের দুর্দিনে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকার, সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। সম্প্রতি সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, পরিবহন পেশাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই নানা অনভিপ্রেত দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের প্রাণহানি ঘটে, যা পুরো পরিবারকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।

রোববার বিকেলে সিলেট নগরীতে শ্রমিক ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিল থেকে প্রয়াত ২০ জন শ্রমিকের পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়। মানবিক এই উদ্যোগের আওতায় নিহত প্রতিটি শ্রমিকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। প্রিয়জন হারানোর শোকের পাশাপাশি পরিবারগুলো যখন চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে, তখন এই অনুদান তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে কদমতলী ও গোয়ালাবাজার মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নসহ সিলেট-ঢাকা, সিলেট-সুনামগঞ্জ এবং সিলেট-তামাবিল সড়ক রুটের বিভিন্ন শ্রমিক পরিবারের হাতে সহায়তার এই অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, কেবল নিজের ত্রুটির কারণে নয়, অনেক সময় অন্য চালকের অসতর্কতা কিংবা অদক্ষতার শিকার হয়েও অনেক দক্ষ চালক ও শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং সমাজের সকলেরই এই দায়িত্ব পালন করা উচিত। তিনি জানান, সরকার সবসময় শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করছে এবং সিলেট সিটি করপোরেশনও পরিবহন শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে সর্বদা তাদের পাশে থাকবে। এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম কেবল সাময়িক সাহায্য নয়, বরং শ্রমিক পরিবারগুলোর প্রতি দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার একটি বড় মাধ্যম বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে নিহত শ্রমিকদের স্বজনদের হাতে কল্যাণ তহবিলের চেক তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় শ্রমিক সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং ভবিষ্যতে শ্রমিকদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ আরও প্রসারিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে। এই অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানটি শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে কিছুটা হলেও আশার আলো সঞ্চার করেছে এবং শ্রমিক কল্যাণে সমাজ ও সংগঠনের সম্মিলিত ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: