বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বাজারে বেসরকারি এলপি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক বেশি হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেডের উৎপাদিত সিলিন্ডার বিক্রি হয় নামমাত্র মূল্যে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম প্রায় দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও সরকারি সিলিন্ডারের দাম ধরা হয়েছে মাত্র ৭৭৭ টাকা। কম দামের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে এই জ্বালানির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে বাজারে সুলভ মূল্যের এই সরকারি গ্যাস সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। কম দামের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও কালোবাজারি চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেশে পাইপলাইন গ্যাসের ঘাটতি এবং নগরায়ণ বৃদ্ধির ফলে বোতলজাত এলপিজির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমানে দেশের মাসিক চাহিদা এক লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেডের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা মোটে ১৫ থেকে ২০ হাজার টন। এই সামান্য পরিমাণ দিয়ে দেশের মোট বার্ষিক চাহিদার মাত্র এক শতাংশের বেশি পূরণ করা সম্ভব হয়, যা দিয়ে বড়জোড় তিন থেকে পাঁচ দিনের চাহিদা মেটানো যায়। ফলে সরকারি গ্যাসের এই সুফল সমাজের অতি সীমিত একটি অংশ পাওয়ার সুযোগ পায়।
উৎপাদিত সরকারি এলপি গ্যাসের একটি বড় অংশ বিভিন্ন বাহিনীকে সরবরাহ করা হয়। বাকি অংশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বা বিপিসির তিন তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ডিলারদের মাঝে বিতরণ করা হয়। তবে এই ডিলারদের মধ্যে সিলিন্ডার বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা নিয়ম-শৃঙ্খলা দেখা যায় না। অনেক ডিলার নামমাত্র কয়েকটি সিলিন্ডার পেলেও অন্যরা অস্বাভাবিক বেশি বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। ডিলারদের মাঝে বরাদ্দের এই তারতম্যের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারে না সংশ্লিষ্ট বিপণন কোম্পানিগুলো।
বাজারের মূল দামের চেয়ে সরকারি সিলিন্ডারের দাম অনেক কম হওয়ায় তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। কম দামি সরকারি গ্যাস কিনে তা বেসরকারি সিলিন্ডারে ভরে অধিক মূল্যে বিক্রির মতো অনিয়ম হচ্ছে। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সরকারি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে বেসরকারি কোম্পানির কাছাকাছি নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এলপি গ্যাস লিমিটেড। যদিও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে নিম্ন আয়ের প্রান্তিক মানুষের সুলভ মূল্যে জ্বালানি পাওয়ার অধিকার পুরোপুরি ক্ষুণ্ন হবে।