শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

মোহনগঞ্জে আমন ধানে ফিরেছে প্রাণ, কৃষকের মুখে হাসি

জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে চলা অনাবৃষ্টির পর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার আমন ধানের মাঠে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় এখানকার উঁচু অঞ্চলের ধানখেতগুলোতে গভীর ফাটল দেখা দিয়েছিল এবং মাটি শুকিয়ে চৌচির হয়ে পড়েছিল। সেসময় ফসল বাঁচাতে স্থানীয় কৃষকদের গভীর নলকূপ ও ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর ভরসা করতে হতো, যা তাদের উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া কয়েক দফা বৃষ্টিকৃষকদের সেই চরম দুর্ভাবনা দূর করে দিয়েছে।

প্রকৃতির এই রূপবদলে উপজেলার মাঘান সিয়াদার, বরতলী বানিয়াহারী, সমাজ সহিলদেও, তেতুলিয়া, বড়কাশিয়া বিরামপুর, গাগলাজুর ও সুয়াইর ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার কৃষিজমি এখন সবুজে ভরে উঠেছে। মাঠে থাকা ব্রি ৩৯, ব্রি ৪৯, ব্রি ২২, ব্রি ৩৪, কালিজিরা ও চিনিগুঁড়া জাতের ধানগাছগুলো বৃষ্টির ছোঁয়ায় দারুণ সতেজ হয়ে উঠেছে। এসব খেতের বেশিরভাগ ধানগাছ বর্তমানে কাইচ থোড় বা শীষ বের হওয়ার আগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি পাওয়াতে ধানের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো হবে বলে কৃষকেরা আশাবাদী।

খুরশিমুল গ্রামের কৃষক অসিত সরকার জানান, অনাবৃষ্টির কারণে যখন ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে। ধানগাছগুলো এখন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বড় হচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তারা ভালো ফলনের ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী। উলুকান্দা গ্রামের কৃষক নয়ন মিয়া বলেন, আকাশের এই আশীর্বাদমূলক বৃষ্টিতে তাদের সেচ বাবদ অতিরিক্ত খরচ অনেকাংশে বেঁচে গেছে। মাঠের বর্তমান সজীব রূপ দেখে কৃষকদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পুরো নেত্রকোণা জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোহনগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এই বৃষ্টিকে আমন চাষের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও উপকারী বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, বৃষ্টির এই পানি জমির মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনেছে, যা ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুষ্ট দানা গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: