রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
স্বাস্থ্য ডেস্ক: প্রস্রাব করার সময় পুরুষদের দাঁড়িয়ে থাকা ভালো নাকি বসে থাকা উচিত, এই বিষয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটাতে নতুন একটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। সম্প্রতি নিউরোইউরোলজি অ্যান্ড ইউরোডাইনামিকস সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় জানানো হয়েছে যে, সুস্থ পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাব করার এই দুই ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে কার্যকারিতার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো তফাত নেই। কলম্বিয়ান ইউরোলজি রিসার্চ গ্রুপের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ৫২ জন সুস্থ পুরুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের উভয় অবস্থানেই প্রস্রাব করতে বলেন এবং তাদের শারীরিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করেন।
গবেষণার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশকে প্রথমে বসে এবং পরে দাঁড়িয়ে, আর অন্য অংশকে এর বিপরীত নিয়মে প্রস্রাব করতে বলা হয়। প্রতিটি পরীক্ষার মধ্যে অন্তত চব্বিশ ঘণ্টার একটি নির্দিষ্ট বিরতি রাখা হয়েছিল, যা বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় ওয়াশআউট পিরিয়ড নামে পরিচিত। প্রতিবার প্রস্রাবের সময় সর্বোচ্চ প্রবাহের হার এবং মোট নির্গত প্রস্রাবের পরিমাণ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা হয়। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায় যে, শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে প্রস্রাবের এই সূচকগুলোতে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আসে না। তবে গবেষকেরা লক্ষ করেছেন যে, দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার সময় সর্বোচ্চ প্রবাহের গতিতে পৌঁছাতে সামান্য একটু বেশি সময় লাগতে পারে। পরিসংখ্যানগতভাবে এই তফাত সামান্য হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল যে, প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া বা নিম্ন মূত্রনালির সমস্যায় ভোগা পুরুষদের জন্য বসে প্রস্রাব করা অধিক সুবিধাজনক। চিকিৎসকদের মতে, বসে প্রস্রাব করলে শ্রোণীদেশীয় পেশি শিথিল হয় এবং মূত্রথলি তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে খালি হতে পারে। তবে সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই দুই পদ্ধতির কার্যকারিতায় বড় কোনো তফাত না পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কোনো জটিলতা না থাকলে পুরুষেরা নিজেদের পছন্দমতো যেকোনো মাধ্যম বেছে নিতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে এই অভ্যাসের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলোও জড়িত থাকে, যা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি মাথায় রেখে যার যার সুবিধা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই সবচেয়ে শ্রেয় বলে মনে করেন গবেষকেরা।
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের শরীরে কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন আসে যা প্রস্রাবের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। পঞ্চাশ বছর বয়স পার হওয়ার পর অনেক পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে যায়, যার ফলে মূত্রনালি সংকুচিত হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা কঠিন হতে পারে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বসে প্রস্রাব করা ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণার লেখকেরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, আগেকার অনেক গবেষণায় ছোট নমুনার ওপর ভিত্তি করে অতিরঞ্জিত সিদ্ধান্ত টানা হয়েছিল। নতুন এই গবেষণায় সেই সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে যে সুস্থ পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের অবস্থানে খুব একটা ফারাক পড়ে না। তাই কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকলে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী যেকোনো উপায় বেছে নেওয়ায় কোনো বাধা নেই।