মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে চিঠি দেবে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় অতীতে মূল্যায়নে আন্ডার-মার্কেটিং ও ওভার-মার্কেটিং হতো, এইচএসসির নম্বর প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী মিরপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, খুলেছে মেট্রো স্টেশন সুনামগঞ্জে ৮৭ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, বিএনপির সংবাদ সম্মেলন কুইক রেন্টালে লুটপাট নয়, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ চান প্রধানমন্ত্রী অর্থবছরের আড়াই মাসেই জ্বালানি ভর্তুকি গেছে ২৪ হাজার কোটি টাকা: তথ্য উপদেষ্টা ৫১তম বিসিএস: ৫ হাজার চিকিৎসক হতে আবেদন করলেন ৪৪,৬৩৫ জন শেখ হাসিনা জীবিত থাকাকালে নাশকতার চেষ্টা থামবে না, মন্তব্য তথ্য উপদেষ্টার ভারতে মসজিদ-মাদ্রাসায় বুলডোজার অভিযান বন্ধের দাবি, তিন দফা প্রস্তাব জমিয়তের বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আখতারুজ্জামান

অর্থবছরের আড়াই মাসেই জ্বালানি ভর্তুকি গেছে ২৪ হাজার কোটি টাকা: তথ্য উপদেষ্টা

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি অর্থবছর শুরু হওয়ার মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় চব্বিশ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই খাতে পুরো বছরে আটচল্লিশ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা থাকলেও আমদানিকৃত জ্বালানির চড়া দামের কারণে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্যের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করা হয়েছে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এলএনজি আমদানির উচ্চমূল্যের কথা উল্লেখ করে সরকারের এই নীতিনির্ধারক জানান, বর্তমানে প্রতি ইউনিট এলএনজি কিনতে হচ্ছে ত্রিশ ডলারে। অথচ এর আগের বিভিন্ন সময়ে এই দাম অনেক কম ছিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের মেয়াদের সর্বোচ্চ দামও চৌদ্দ ডলারের বেশি ছিল না। এভাবে অতিরিক্ত ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হলে সরকারকে বাধ্য হয়ে ঋণ নিতে হবে, যার শেষ পরিণতি গিয়ে ঠেকবে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো মূল্যস্ফীতিতে। তবে সাধারণ জনগণের কষ্ট এবং জীবনযাত্রার ওপর এলপিজি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সরকার সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারছে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বিগত সময়ের মতো আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার থেকে পুলিশ বাহিনীকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এখন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রচলিত আইন মেনে এবং সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির তুলনায় কেবল সামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ করতে বলা হয়েছে, যাতে সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং এর ফলে সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য জরুরি সামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত রাখার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনের নানা প্রসঙ্গ ও বিতর্কের বিষয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে এবং তাঁকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে পাসপোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা ট্রাভেল পাস প্রদানের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পরিস্থিতি এবং উপযুক্ত সময় সামনে এলে এসব বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: