রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
রংপুরে সরকারি কোয়ার্টার: কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দ থাকছেন ভাড়াটেরা রামেক হাসপাতাল: নকল ফিল্ম সরবরাহ টিউবও নিম্নমানের পাটগ্রাম শহর: অটোর দাপট, যানজটে ভোগান্তি বগুড়ায় কুকুর আতঙ্কে মানুষ ঈশ্বরদীতে প্রথম জাতীয় ইয়ুথ নিউক্লিয়ার সংলাপ অনুষ্ঠিত মায়ের গর্ভে ভ্রূণের বিকাশ: কোরআনের বিস্ময়কর বর্ণনা রাজশাহীতে ৪ দিনব্যাপী বনসাই প্রদর্শনী শুরু নেতানিয়াহু নন, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করল হ্যাকারেরা, অভিযোগ রাশিয়ার দিকে এআইয়ের সহায়তায় সিইও সেজে ১৩ লাখ ডলার জালিয়াতি, ইসরায়েলিসহ গ্রেপ্তার ৩

রামেক হাসপাতাল: নকল ফিল্ম সরবরাহ টিউবও নিম্নমানের

নিউজ ডেস্ক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফুজি ফিল্মের মোড়কে নকল এক্স-রে ফিল্ম এবং প্যাথলজির জন্য নিম্নমানের নমুনা সংগ্রহের টিউব সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দুজন ঠিকাদার হাসপাতালের নিয়ম উপেক্ষা করে এই অনিয়ম করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতেই মূলত এই ধরনের নিম্নমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসা মহলে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মতিউর রহমান নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মাপের এক্স-রে ফিল্ম সরবরাহের কার্যাদেশ পায় এবং গত অক্টোবর মাসে সেগুলো সরবরাহ করে। কিন্তু সরবরাহ করা ফিল্মের প্যাকেটে ফুজি ফিল্মের লোগো থাকলেও দেশের একমাত্র পরিবেশক মেডি গ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড নিশ্চিত করেছে যে এগুলো তাদের সরবরাহকৃত পণ্য নয়। পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের দাবি, বিশ্বজুড়ে কম দামে এই ধরনের নকল ফিল্ম তৈরি হয় যা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং তা ব্যবহারের ফলে এক্স-রে মেশিনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা কাগজপত্র জমা না দিয়েই কার্যাদেশ বাগিয়ে নিয়েছিল।

অন্যদিকে, গেটওয়ে ইন্টারন্যাশনাল নামের আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রক্ত পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত মানের পরিবর্তে অত্যন্ত কম দামের চায়না জিআর ভ্যাকুটেইনার টিউব সরবরাহ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী মানসম্মত দেশীয় প্রতিষ্ঠানের টিউব দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা না করে সস্তা ও নিম্নমানের টিউব সরবরাহ করে ইতোমধ্যে লাখ লাখ টাকার বিলও দাখিল করেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হাসপাতালের জরুরি চাহিদার কথা চিন্তা করেই সাময়িকভাবে এই পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।

এই পুরো প্রক্রিয়াটির পেছনে হাসপাতালের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করেই ঠিকাদারেরা এই নিম্নমানের চিকিৎসা সামগ্রী হাসপাতালে প্রবেশ করিয়েছেন। তবে সংবাদমাধ্যম থেকে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং হাসপাতালের মুখপাত্র ফোন ধরতেও অস্বীকৃতি জানান। সামগ্রিক এই অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: