মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নড়াইলে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের মানিকগঞ্জে আলোচিত হিরন হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন চৌদ্দগ্রামে কানাইল খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন ডিসি স্কুল ছাত্রী আনজুম হত্যা মামলার চার্জশিটে নারাজি, পুনঃ তদন্তের জন্য সিআইডি কে নির্দেশ বুশরা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে ডিসির কাছে আমানতকারীদের আবেদন এক মাসের ব্যবধানে গোবিপ্রবিতে ভিসি পদে ফের পরিবর্তন: নতুন উপাচার্য ড. সোহেল হাসান আসছে সালমান শাহকে নিয়ে নতুন সিনেমা ইরানকে একঘরে করার হুমকি ট্রাম্পের, নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নতুন আমদানি নীতি-২০২৬ জারি, এলসি ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ

বুশরা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে ডিসির কাছে আমানতকারীদের আবেদন

শেখ ফারুক হোসেন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বুশরা গ্রুপের প্রায় ১০ হাজার আমানতকারীদের পাওনা অর্থ ফেরত দিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানটির কালিগঞ্জ শাখা অফিস সিলগালা করে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা মাধ্যমে এ আবেদন করা হয়। আবেদনে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক ইকবাল কবির পলাশকে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, বুশরা গ্রুপের বুশরা কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বুশরা ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের অধীনে আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ জমা রেখে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রচলিত নিয়ম ও শর্তের প্রতি আস্থা রেখে তারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ আমানত হিসেবে রাখেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রয়োজনের সময় আমানত উত্তোলনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অনেক আমানতকারী তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। কেউ এক বছর, কেউ দুই বছর কিংবা তারও বেশি সময় আগে মূল আমানতের টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমানতকারীদের মধ্যে মোঃ হাসানুজ্জামান, মোঃ আব্দুল মান্নান, এস এম রেদওয়ানুল ফেরদাউস রনি, মমতাজ বেগম সহ কয়েক শত গ্রাহকের অভিযোগ, টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে গেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে হচ্ছে। এতে অনেক আমানতকারী ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুশরা গ্রুপের কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। আমানতকারীদের আশঙ্কা, সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে তাদের পাওনা অর্থ আদায় আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

এ কারণে আমানতকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বুশরা গ্রুপের আমানতকারীদের পাওনা অর্থ ফেরত প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়টির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে যাতে সম্পত্তি নিয়ে লেনদেন করা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

আবেদনের সঙ্গে কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তির বিবরণও সংযুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দলিল নম্বর ১৯৯৬/২০২০, মৌজা বাজারগ্রাম, সি.এস খতিয়ান ০৫, এস.এ খতিয়ান ১১ এবং দাগ নম্বর ৩৪০/৩৪২ উল্লেখ করা হয়েছে। জমির পরিমাণ প্রায় ০.২৯৭২ একর বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে। আবেদনের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ; সহকারী কমিশনার (ভূমি), কালিগঞ্জ; সাব-রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রি অফিস, কালিগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের কাছেও দেওয়া হয়েছে।

ডিসি সাতক্ষীরাকে স্বারক লিপি দেওয়ার সময় ৩ আসনের এম পি হাফেজ মুহাম্মদ রবিউল বাশারের কাছে বুশরা গ্রুপের আমানতকারীরা অভিযোগ করেন। এসময় তিনি বলেন বিষয়টি আমি দেখবো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। আবেদনকারীদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আমানতকারীদের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তর বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।তবে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল ইসলাম ও নির্বাহী পরিচালক ইকবাল কবির পলাশ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছবিঃ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বুশরা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে জেলা প্রশাসক বরাবর আমানতকারীদের আবেদন জমা দেওয়ার পূর্ব মুহূর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনে আমানতকারীদের উপস্থিতি।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: