মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আসছে সালমান শাহকে নিয়ে নতুন সিনেমা ইরানকে একঘরে করার হুমকি ট্রাম্পের, নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নতুন আমদানি নীতি-২০২৬ জারি, এলসি ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা ইতিবাচক হওয়া উচিত, ভারতকে ভাবতে হবে: পানি সম্পদমন্ত্রী আগের সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গোপালগঞ্জে এস এ পরিবহনে পুলিশের অভিযান: কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের তথ্য ও নথি জব্দ ক্রেতা নেই, হিমাগার থেকে আলু নিচ্ছে না কৃষক ও ব্যবসায়ী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কুলাউড়ায় বিএনপি নেতা আলমাছ কে বহিষ্কার নড়াইলে ইয়াবাসহ দম্পতি আটক চৌদ্দগ্রামে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে ডিসির মতবিনিময়

নতুন আমদানি নীতি-২০২৬ জারি, এলসি ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ

ঋণপত্র বা এলসি ছাড়াই এখন থেকে মূল্যসীমা ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা। একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্পে বিনিয়োগের জন্য আমদানি সুবিধা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে নতুন আমদানি নীতিতে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এর গেজেট প্রকাশ করে।

নতুন নীতিতে ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলা হয়েছে।

২০২১-২০২৪ মেয়াদের আগের আমদানি নীতির মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষ হলেও নতুন আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সেটিই কার্যকর ছিল। আগের নীতিতেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এলসি ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ ছিল। তবে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য এলসি ছাড়া আমদানিতে বার্ষিক ৫ লাখ মার্কিন ডলারের সীমা ছিল। নতুন নীতিতে এই মূল্যসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী, নতুন আমদানি নীতির লক্ষ্য আমদানি ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, ব্যবসা সহজ করা, রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পের কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।

নতুন নীতিতে ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও পুনঃরপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও এতে আরও কার্যকর হওয়ার কথা।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে শিল্প ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে নতুন নীতিতে তাদের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি আধুনিক অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

রপ্তানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও উচ্চ মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্য রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন শিল্পে বিনা মূল্যে বা ‘ফ্রি অব কস্ট’ ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।

মোটরসাইকেল আমদানির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের নীতিতে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকলেও নতুন নীতিতে ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিতে পণ্যের এইচএস কোড ও বর্ণনার মধ্যে অসামঞ্জস্যজনিত জটিলতা কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমদানি প্রক্রিয়ায় হয়রানি ও বিলম্ব কমাতে পণ্যের বর্ণনা ও এইচএস কোডের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন আমদানি নীতিতে এফটিএ, সেপা, ইপিএ, ইউনিলেটারাল অ্যাগ্রিমেন্ট ও বাইলেটারাল অ্যাগ্রিমেন্টের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আমদানি ব্যবস্থাকে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএ এবং সেপা কার্যকর হলে সেগুলোর সঙ্গে নতুন আমদানি নীতির সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: