বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
তিস্তা প্রকল্প কি ভূরাজনৈতিক খেলায় পরিণত হচ্ছে ড. ইউনূসকে হেনস্তা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের হিংসাত্মক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ: রিজভী নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভোট রক্ষায় সবাইকে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে: সেলিম উদ্দিন পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার বর্ণনা বদলাবে, এবার যেভাবে থাকছে ‘নিজেদের ভবিষ্যত পুনরুদ্ধারের উপযুক্ত সময় এখনই’ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে চাকরি বঞ্চিত হবে বিপুলসংখ্যক তরুণ ৬০ বছর বয়সে এসে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন সালমান খান সরকার আমার পক্ষে, ক্যাম্পাসে ফিরবো না এই শর্ত দেইনি: চুয়েট ভিসি কালিগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন

৩৪ কোটি টাকার ম্যাটস এখন নেশাখোরদের আস্তানা

জাতীয় ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল বা ম্যাটস দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কাইতকাই মৌজায় প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির অবকাঠামোগত কাজ বহু আগেই শেষ হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় লোকবল ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের অভাবে বহুমুখী এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি চালুর বিষয়টি চার বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে রয়েছে। এর ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি কোনো কাজেই আসছে না এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও পূরণ হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই বিশাল চত্বরে একাডেমিক ভবন, অধ্যক্ষের বাসভবন, ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল এবং শিক্ষক কোয়ার্টারের মতো একাধিক সুউচ্চ স্থাপনা রয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই পুরো এলাকাটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো ক্যাম্পাস চত্বর এখন জঙ্গল ও ঘাসে ঢেকে গেছে। সঠিক দেখভালের লোক না থাকায় পরিত্যক্ত এই ভবনগুলো ধীরে ধীরে স্থানীয় মাদকসেবী ও বখাটেদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরে ভবন হস্তান্তরের দীর্ঘসূত্রতাই এই অচলাবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ। এর মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন সময়ে কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এত বড় একটি সরকারি প্রকল্প কার্যত কোনো সুফল না দিয়েই নষ্ট হতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরের দামি আসবাবপত্র ও অন্যান্য অবকাঠামোগত জিনিসপত্র ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু জানিয়েছেন, এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি চালু করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে কোনো ইতিবাচক পরিকল্পনা নেই। মূলত পাস করা শিক্ষার্থীদের সরকারি কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় সরকার নতুন করে এই প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে চাচ্ছে না। এর পরিবর্তে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এই অবকাঠামোটি স্বাস্থ্য খাতের অন্য কোনো বিকল্প কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত একটি প্রতিষ্ঠান এভাবে অকেজো পড়ে থাকায় জনমনে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: