শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০১:৩২ অপরাহ্ন

শুভ বড়দিন আজ

নিউজ ডেস্ক :: বৈশ্বিক মহামারি কভিড-১৯ জনিত পরিস্থিতির কারণে এবার অনেকটাই সীমিত পরিসরে উদযাপিত হচ্ছে শুভ বড়দিন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ‘জৌলুসহীন’ এক উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার বাইরে আনুষঙ্গিক আয়োজনও অনেকটা সংক্ষিপ্ত করে আনা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে উদযাপিত হবে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। খ্রিষ্ট ধর্মানুসারীরা ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবেন।

করোনার কারণে সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ উৎসব উদযাপিত হবে।

২৫ ডিসেম্বরের এই দিনে খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট জন্ম নেন। বর্তমান ফিলিস্তিনের বেথলেহেমে মা মেরির গর্ভে জন্ম নেন তিনি। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, তিনি ঈশ্বরের পুত্র। পৃথিবীতে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিতে, মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালনা করতে এবং সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচারের লক্ষ্যে প্রভু যিশুর এ পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিল।

বড়দিন উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। এসব বাণীতে তারা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি রেডিও, টিভি ও সংবাদপত্রগুলো এ দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান ও প্রকাশনার মাধ্যমে দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, ঊষাতন তালুকদার ও নির্মল রোজারিও, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় পংকজ সাহা, রাহুল বড়ূয়া ও রবার্ট নিক্সন ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাপস বল খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শুভ বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাজধানীর কয়েকটি গির্জা ঘুরে জানা গেছে, করোনার মধ্যে বিধিনিষেধ মেনেই বড়দিনের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। তবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিয়ম মেনেই আয়োজিত হবে। প্রার্থনাও চলবে যথারীতি। আর এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে গির্জার ভেতরে বর্ণাঢ্য সাজসজ্জায় প্রতীকী গোশালা বসানো হয়েছে।
বেথলেহেমের গরিব কাঠুরের গোয়ালঘরে যিশুখ্রিষ্টের জন্মের কথা স্মরণ করে ধর্মীয় আবহ সৃষ্টি করতেই এই গোশালা বসান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। ঐতিহ্যবাহী ও জাঁকজমকপূর্ণ এ সাজসজ্জায় রঙিন কাগজ, ফুল ও আলোর বিন্দু দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দনভাবে।

বিশেষ প্রার্থনা এবং খাবারের আয়োজনের প্রস্তুতিও শেষ করে আনা হয়েছে। বেশিরভাগ গির্জায় থাকছে সীমিত আলোকসজ্জা। গির্জার বাইরে আনন্দ-উৎসব ও আলোকসজ্জা থাকছে না বললেই চলে। থাকছে না বড়দিন উপলক্ষে মেলার আয়োজন।

আয়োজকরা জানান, গির্জার প্রবেশমুখে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। প্রার্থনা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ব মেনে ভক্তদের অংশ নিতে দেওয়া হবে। খ্রিষ্টানদের ঘরে ঘরেও চলছে সীমিত উৎসব উদযাপনের অনুরূপ প্রস্তুতি।

রাজধানীর অভিজাত হোটেলগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনার কারণে এবার হোটেলগুলোর আয়োজনও সীমিত থাকবে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, র‌্যাডিসন, লা মেরিডিয়েন, ওয়েস্টিন, হোটেল ওয়েসিস, ঢাকা রিজেন্সি হোটেলসহ দেশের বড় বড় হোটেলে এসব বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে সীমিত। তবে হোটেলগুলো সাজানো হবে রঙিন বাতি আর ফুল দিয়ে, সাজানো হবে ক্রিসমাস ট্রি। সীমিত পরিসরে থাকবে সান্তা ক্লজের চমকপ্রদ উপস্থাপনা ও শিশু-কিশোরদের জন্য নানা উপহার। কোথাও কোথাও বড়দিনের কেক কাটা হবে।

বড়দিনের উৎসব ঘিরে দেশের সব গির্জার পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হবে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। ঢাকা মহানগরের ৬৫ গির্জা ও আশপাশ এলাকা সিসিটিভির আওতায় নেওয়া হবে।

রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা হোলি রোজারিও চার্চের (পবিত্র জপমালা রানীর গির্জা) সাবেক পাল পুরোহিত এবং ফার্মগেট বেনজন ভিয়ান্দী হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ফাদার কমল কোড়াইয়া বলেন, আসলে প্রকৃতিই এবারের বড়দিনের উৎসবকে ‘সীমিত’ করে দিয়েছে। এর পরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতভাবে যতটুকু উৎসব পালন করা যায়, ততটুকু করবেন তারা।
তিনি বলেন, করোনার কারণে আগে থেকেই গির্জাগুলোতে ভক্ত সমাগম কম হচ্ছিল। অনেকেই গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। তাই এবারের বড়দিনে ভক্ত সমাগম কম হবে বলে মনে করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি