বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
কুষ্টিয়ায় সাব রেজিস্ট্রার হত্যা মামলায় ৪ আসামির ফাঁসি ও ১ জনের যাবজ্জীবন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ করেন বিশ্বে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছাড়াল ২৩ কোটি বিশ্বনেতাদের সামনে যে ৩ প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী মনে হচ্ছে আমি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ দাঁড়াবে না : পাপন পলাশের জিনারদীতে প্রফেসর কামরুল ইসলাম গাজীর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত বরগুনার তালতলীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ, যুবক কারাগারে প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘের এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার প্রদান পূর্ণিমা ভক্তদের জন্য সুখবর ভালোবাসা ও লড়াইয়ের নতুন বার্তা দিলেন নুসরাত

দুলুসহ বিএনপির ৪ নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন

নিউজ ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসসহ দলের চারজনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করেছে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে এ আবেদন দেওয়া হয়।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল আবেদন পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আবেদন পেয়েছি। এটার এখন পরবর্তী বিষয়গুলো দেখা হবে।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসাব্বিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলার এই আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, মামলার আবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি অনুমোদন দিলে মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ছাড়াও আরও যাদের আসামি করার আবেদন করেছেন তারা হলেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক সিটি মেয়র ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

আবেদনে বলা হয়, গত ২ মার্চ বিএনপি রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করে। মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিএনপির এই চার নেতা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের অসৎ উদ্দেশ্যে নেতাকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মিজানুর রহমান মিনু প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হাসিনা রেডি হও, আজ সন্ধ্যার সময়, কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে, মনে নাই পঁচাত্তর সাল? পচাত্তর সাল মনে নাই?’

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, মিনুর এই ঘোষণার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উগ্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। কিছু নেতাকর্মী সমাবেশের এই বক্তব্য ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করেন। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদুস তালুকদার দুলুসহ অন্যরাও একইভাবে বক্তব্য দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করেন এবং বেআইনিভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুমকি দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাসহ নির্বাচিত সরকার উত্থাতের প্রকাশ্য ঘোষণা ও হুমকি দিয়ে তারা রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধ করেছেন। যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি বিপদজনক ও হুমকিস্বরূপ।

মামলার আবেদনের পর দুপুর নগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেনো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সাহস না পায়, সেজন্য তাদের মামলার এই সিদ্ধান্ত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলার অনুমতি দিবে বলে তিনি আশাবাদী। না হলে দলীয়ভাবে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সহ-সভাপতি মীর ইকবাল, নওশের আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ।

উল্লেখ্য, সমাবেশে আরেকটি আগস্ট ঘটানোর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করে মহানগর আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। মিনুকে জাতির সামনে ক্ষমা চাইতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় আওয়ামী লীগ। নাহলে মামলা করারও ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ। আর ওয়ার্কার্স পার্টি মিনুকে গ্রেফতারের দাবি জানায়। আল্টিমেটামের ৭২ ঘণ্টা পর মিনু গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন। তবে ক্ষমা না চাওয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলার আবেদন করা হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি