বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

অবিসংবাদী – আজমাইন ফায়েক আবির

আমার পা জমাট বেঁধে আসে; শক্ত হয়ে যায়
এগোতে ব্যর্থ সামনে
যখন তাদের চোখ হাসে- ভুরুলেখায় প্রশান্তির ছায়া
নবাগত নই; আমি চির দূর্বার
এই চপলা হরিণী মেয়ে, শোনো-
বদমেজাজি আমার উপাধি; দহিত অনুরাগে
প্রতি ক্ষণে নিশ্বাসের ন্যায় ছাড়ি দীপ্ত হুংকার
আমার শিরায় সঞ্চিত বিষ
দেহে ভস্মীভূত আত্মা; করবে তোমাদের রোষাবেশের সৎকার
হরিদ্বর্ণ আমার ছায়া
সুবাসে তীব্র বিষের গন্ধ
শুঁকে নিলে তা; ঝলসে যাবে তোমার হৃদয়ে রূপের অহংকার
তোমাদের তনুতে যত বীর্যের ছাঁটা
সম্ভ্রম মাটিতে লুটায়ে গড়াগড়ি
কী ভেবেছিলে নিজেদের? খোলস মুক্ত আমার ক্ষিপ্ত তরবারি
সতীত্ব নষ্ট করে ঘরে ফিরলে; সভ্য ঘরের মানহানি
এই বৃন্তচুত্য মনোরমা’র দল
পিষছো গেরস্থালির রোষানলে
যাঁরা অর্থে চেনেছিলে সুখ; হন্যে হয়ে ভাবছো-
প্রতারণার শাস্তি বুজি পেলে
প্রকৃতির হিসেব বাকি, বিধাতা বড়োই করুণাময়
অশ্রুজল গড়ালো উনুনে
ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষায় তরুণী ষড়যন্ত্রকারী
এরপর একরাশ ক্লেদাক্ত হতাশা-
লাবণ্য ত্বকে ফোসকা পড়েছে; মলিন হলো কায়া
নেই তো ধ্ররুপদী বাহার
পচে গলে ঐশ্বর্য নিঃশেষ
প্রাচুর্যের পাহাড়ধস; বিংশ শতাব্দী দেখেছে নর্তকী’দের রেশ
ছুঁয়েছে ভাবনা যত
ছাড়িয়েছে ধোঁয়ার মতো
পরকীয়া প্রেম হাঁটছে আমার পাশাপাশি পায়ের মতো
যাঁরা একটু সাহিত্য লোভী ছিলে-
খুলে দেখছো প্রাক্তন প্রেমিকের দেয়া শুকনো বেলী ফুলের মালা;
সুবাস নিভে যাওয়া পিঙ্গল দেহী শিউলি ফুল,
কন্টক হীন মৃত লাল গোলাপ,
তাদের দেওয়া পুরনো ভাঁজ করা চিঠিতে অবকাশে মুক্তির পথ খোঁজো
অথচ সেই গোলাপের কাঁটা দিয়েই-
প্রেমিকের বুক চিড়েছিলে পরিণয় পূর্বে;
তাতে প্রণয়ের তাজা রক্ত লাগা
হত্যা করেছো নবজাতক সাবলীল প্রেম,
হত্যাকারীনি তুমি হত্যাকারীনি পরিস্থিতি কেবল ভ্রান্ত-ধ্রæব ধাঁধা
আজন্ম কাম্য পীযূষ আমি; বহু প্রতিক্ষিত নিষ্কৃতি’র দ্বার
আমার গর্ভ মধ্যেই উত্তরণ পারাপার-
মাঘের কমলা সূর্য; আমার ঠান্ডা লাগে ভীষণ
বৃক্ষের শিখরে দামকা দাম্ভিক বাতাস
নগ্ন পায়ে ভূমি’তে হাঁটি যাতে-
মুক্ত ইলেকট্রন দেহে প্রবেশ করে
এন্টিঅক্সিডেন্ট এর কর্তব্য সাধতে পারে
তোমাদের শরীর স্পর্শের ফল সরূপ;
যে সমস্ত বিষাদ শিক্ত নিনাদ তিক্ত-
মৌল প্রবেশ করেছে অভ্যন্তরে,
সেগুলো ভেঙে যেতে উদ্যত হয়
পেন্সিলের তীক্ষ্ণ সীস তাতে লেগে থাকা তীব্র বিষ;
যখন লেখনী’র কালির সাথে মিশে যায়
সেই লেখনী জন্মদাত্রী হয়ে ওঠে-
প্রতিবাদী কাব্যের; বীরাঙ্গনার নৃত্যের
চঞ্চল শ্রাবণে তা অটল, দুর্ভেদ্য, চির বিরাজমান
সেই কাব্য তোমাদের অধঃপতনের’র পঙক্তিমালা ভাষ্য করে,
হাতে জিন্স,হাতে শাড়ি; হয়ে ওঠো তাতে নারী
যে পাতে ভাত তাতে খাদ;
গিলতে গিয়ে আমার কন্ঠনালী- আমি মরি
মায়ার ছদ্মবেশে পুষেছো দু’হাতে গরল
নিষ্ঠুর গ্রাম্য মোড়ল-
দু’য়ে নিবেদন করো ভ্রান্ত সহায়তা; সৌহার্দ্য মায়া’র ছলে!
কী ভেবেছো কিছু বুঝিনা?
দুপায়ে ঘুঙুর বেঁধে প্রতারণা’র নৃত্য পরিবেশন করো-
সায়র বোধকরি; ছলনার চর আবিষ্কার করি নিজেকে ঘিরে
অতঃপর আমার ভাবনা’দের মৃত্যু!
বুকে বেবাক ব্যথা অনুভূত হয়,
একবিংশ হায়নে যার কোনো নিরাময় নেই;
এমন মারণাস্ত্রের আঘাত গোপন করো অন্তর বাসে
আমার অঙ্গে লেগে থাকা দেবতার স্পর্শ-
পরাজয়ের পূর্বাভাস;
তবু যুদ্ধ জিততে প্রেম রচতে মরিয়া একদল অমর
ইতিহাসের বুকে দীপ্ত পায়ে হেঁটে
স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন তাঁরা- একদল অবিসংবাদী
আমি সেই দলের একটি ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ সত্তা;
হতে আদি, অন্ত, অনাদি- আমিও অবিসংবাদী।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি