বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১২:২৬ অপরাহ্ন

আত্মচিন্তন-আজমাইন ফায়েক আবির

একরাশ চিন্তা মস্তকে নিয়ে তপ্ত অংশুমালীর নিচে
ধীর পায়ে আমার হেঁটে চলা
ননমেজর ইকোনমিক্স আর
তিনশত এক নং কোর্সে অকৃতকার্য হবার গ্লানি
ক্রমশ প্রবল ইচ্ছে দিনকে দিন
অসামাজিক প্রোপাগান্ডা যত ফাঁদ পেতে আছে
জীবনের পথচলতি মোড়ে-মোড়ে
আত্মচিন্তা দ্বারা ঘায়েল হয়ে আত্ম কে করেছি বুমেরাং
চিন্তা চিন্তা নানান চিন্তা;
অর্থ চিন্তা, প্রণয় চিন্তা, পারিবারিক চিন্তা-
সাথে আত্মচিন্তা টিও ইদানীং চেপে বসছে ভীষণ
অকারণ ট্রমাটাইজ ইচ্ছে মস্তিষ্ক
বক্ষ জুড়ে তোলপাড়
যেন নড়বড়ে সাম্পান কে আহত করছে
দানব আকৃতির সামুদ্রিক তুফান!
নবফুটিত প্রসূন পড়েছে
অদৃষ্টের নির্মম ঝড়ের অভিমুখে;
সেই অভিমুখ হতে না যায় ফেরা, অসম্ভব দিক পরিবর্তন
কর্তন করে ফেলতে ইচ্ছে করে উটকো সব অভিযোগ
আমিই কেনো? ট্রিলিওন ট্রিলিওন মানুষদের মধ্যে
নৃত্যে নৃত্যে জীবন বৃত্তে;
আপন চিত্তে থমকে যায় যে
গোধূলি বেলায় জীবনের সমস্ত ক্রিয়াকলাপ
কার বা কাদের যেন অভিশাপ;
মর্ত হয়ে মর্মে আঘাত হানে
ভোর-দ্বিপ্রহর শত শত দিবারাত
মুরুংদের ভাষায় স্বর্গকে যারা বলে নাতপ্রেন,
সেই নাতপ্রেন কে পাবার ক্ষোভে
আমি শিকারি ম্রো হয়ে ছুটছি আজও
ভ্রলেখায় সুরমা লেপে যুদ্ধের দামামা কে
আতসবাজির কারসাজি ভেবে উড়িয়ে দেই
তবুও স্বপ্নের আটলান্টাস আর খুঁজে পাওয়া হবেনা
গ্রিক বীর যোদ্ধাদের ঢাল সেই কবে পড়েছে খচে!
শুকিয়ে এসেছে তীক্ষ্ণতা
জীবনও তো এমনই বোকা-
তাপ প্রতাপ হীন কেবল পরিতাপে ঘেরা
তার থেকেও পরিতাপের বিষয় যে,
আপনদের বিদায় জানানো
গাড়ি নিয়ে ছুটছে আমাদের ভারি ভারি লাগেজ;
যান্ত্রিক দেহের অভ্যন্তরে পুড়ছে জ্বালানি
আমার ভেতরে চিত্ত জ্বলছে বিদায়ী জ্বালায়
অবেলায় অলসে হেলায়;
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় বোনে যাই
অংশুমালী অস্ত যাবার লগ্নে
নিমগ্নে  অচিরতা যত দীর্ঘায়িত হয় কাল ভাদ্রে
উদ্ভ্রান্তের মতো ঝড়ো হাওয়ায়
এইতো ফাগুনে শয্যাশায়ী দাদীমা ছেড়ে গেলেন আমাদের!
তার ছেড়ে যাওয়াটা বড্ড করুণ
আবার স্বস্তিদায়কও ছিল বটে!
স্বস্তির বিষয়খানা ছিল উনার পাঁচ পুত্র-কন্যার উপ¯ি’তি
ঘনঘন শ্বাসে তিনি যেন পাঁচজনকেই
অন্তিম আশীর্বাদ করে গেলেন
যান্ত্রিক জীবনে তৃপ্তির অকটেন ঢালবার সূত্রে
একটি বছর আমার বাড়িফেরা হয়নি
সেই বিজোড় বছর পূর্বেই দেখেছিলাম
দাদীর জীর্ণ হাসিমাখা মুখখানি
দীর্ঘশ্বাস; কেবলই দীর্ঘশ্বাস!
এভাবেই আত্মচিন্তায় মগ্ন থেকেই
কোনো এক বসন্তের দুপুরে বিদায় নেবো আমিও
সমস্ত পাওয়া না পাওয়ার হিসেব রেখে
আমার বন্ধু বিন্দু, রাজিব, হাসিব আর কত কে
সেদিন আমার কুলখানিতে
শোকের অশ্রুজ্ঞাপন শেষে বাড়ি ফিরে যাবে
আর প্রাক্তন প্রেমিকাদের দল হয়তো জানবেনই না যে
আমি অক্কা পেয়েছি অবশেষে
অশ্রু বিসর্জন দেবে প্রিয় পাপেল দাদাও যন্ত্রনার রেশে।
তবুও থেকে যাবে এই আত্মচিন্তন অ স মা প্ত;

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি