শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৯:০১ অপরাহ্ন

লকডাউন এড়াতে ওয়ারীর অনেকেই এলাকাছাড়া

নিউজ ডেস্ক : আজ শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাজধানীর ওয়ারীর একাংশে শুরু হলো টানা ২১ দিনের লকডাউন। এই সময়ে পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দাদের মতো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষাধিক বাসিন্দাকে কার্যত ঘরবন্দিই থাকতে হবে।

এই জোনভিত্তিক লকডাউনের সময় এই এলাকার মানুষ কোথাও আড্ডা দিতে পারবেন না। শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওয়ার্ডের মধ্যেই চলাফেরা করতে হবে। ওষুধের দোকান ও হাতেগোনা কয়েকটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ছাড়া সব দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সরকারের তরফ থেকে লকডাউন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকায় বসবাসকারী সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ছুটির আওতায় থাকবেন।

লকডাউন চলাকালে চিকিৎসক-নার্স-সংবাদকর্মী ও খুব জরুরি সেবা সংস্থার গাড়ি ও কর্মী ছাড়া কেউ এলাকায় প্রবেশ বা বের হতে পারবেন না। এ সময় এলাকাবাসীর যাতে কষ্ট না হয়, সে জন্য ডিএসসিসি, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দিয়ে ঘরে ঘরে শাকসবজি পৌঁছানোরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর সেবা দিতে দুই শতাধিক তরুণকে নিয়ে একটি বড় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করা হয়েছে। তারা তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন।
গতকাল শুক্রবার সরজমিনে দেখা গেছে, যে কয়েকটি রাস্তা দিয়ে এলাকাবাসী লকডাউন এলাকায় ঢুকতে বা বের হতে পারবেন, সেগুলো ছাড়া সব সড়ক বাঁশ-কাঠ-তার দিয়ে বিভিন্নভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর করোনা পরীক্ষার জন্য র‌্যাংকিং স্ট্রিটের ওয়ারী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে গতকালও এলাকাবাসীকে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে।

৪১ নম্বর ওয়ার্ডের র‌্যাংকিং স্ট্রিট, লারমিনি স্ট্রিট, নবাব স্ট্রিট, ওয়্যার স্ট্রিট, হেয়ার স্ট্রিটসহ জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন পর্যন্ত মোট ১৬টি লেন লকডাউনের আওতায় পড়ছে। এ এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার মোট ১৭টি পথ রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি প্রবেশমুখ ২১ দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। বাকি দুটি প্রবেশপথ হটকেকের গলি এবং টিপু সুলতান রোড ও র‌্যাংকিং স্ট্রিটের ক্রসিং খোলা থাকবে। এ পথ দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে মানুষ আসা-যাওয়া করতে পারবেন। আজ সকাল থেকেই সার্বক্ষণিক প্রবেশপথ দুটিতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। বাকি ১৫টি পথের মুখে দেওয়া বাঁশের বেড়া এড়িয়ে বাসিন্দারা যাতে বের হতে না পারেন সেজন্য স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন। অবশ্য পুলিশও লকডাউনের ভেতরে ও বাইরে টহল দেবে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই ১৫টি প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া তৈরির কাজ করছেন শ্রমিকরা। রাস্তার এপার-ওপার বাঁশ আড়াআড়ি করে বেড়া দেওয়ায় ব্যস্ত তারা। উচ্চতা ৭ থেকে ৮ ফুট। করোনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এবং লকডাউনের নিয়ম লেখা সংবলিত সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছে এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে।

লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশি তৎপরতাও বেড়েছে। বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে র‌্যাংকিং স্ট্রিটে তিনটি সুপারশপ খোলা রাখা হবে শর্তসাপেক্ষে। স্বপ্ন, মীনাবাজার এবং বিগবাজার নামের এ তিন প্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্রেতারা যেতে পারবেন না। ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করতে হবে। এ তিনটি প্রতিষ্ঠান ক্রেতার মালপত্র বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ডেলিভারিম্যান নিয়োগ দিয়েছে। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমেও কেনাকাটা করা যাবে। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত কিছু ভ্যানে ঘুরে ঘুরে সবজি-মাছ-মাংস বিক্রি করবেন বিক্রেতারা।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের সাধারণ ছুটি না থাকায় গতকাল অনেকেই ২১ দিনের জন্য এলাকা ছেড়েছেন। আর যারা থাকবেন, তাদের দেখা গেছে গতকালও মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বেশি করে কিনে ঘরে নিতে। দোকানগুলোতে ছিল ভিড়। কারণ তারা মনে করছেন, পূর্ব রাজাবাজারে অনেকেরই পণ্য কিনতে সমস্যা হয়েছিল এবং বেসরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা বেরোতে না পেরে বিপাকে পড়েছিলেন।

পুলিশের ওয়ারী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার হান্নানুল ইসলাম গতকাল বিকেলে বলেন, লকডাউন কার্যকরের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার ভোর ৬টা থেকে লকডাউন শুরু হচ্ছে। দুটি প্রবেশপথে সার্বক্ষণিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বাসিন্দাদের অযথা রাস্তায় ঘোরাঘুরি ঠেকাতে ভেতরে পুলিশের একাধিক টিম টহলে থাকবে রাত-দিন। এ এলাকার যেসব বাসিন্দা চিকিৎসাসেবা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট তারা আসা-যাওয়া করতে পারবেন। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হবে না। লকডাউনের নিয়ম-কানুন জানিয়ে কয়েক দিন ধরে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলোর সঙ্গে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে ওই এলাকার সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহিনুর বেগম জানান, লকডাউনের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যারা গরিব মানুষ তাদের চাল-ডাল-তেলের পাশাপাশি প্রয়োজনে শাকসবজিও বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি