সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি বিএনপির

নিউজ ডেস্ক : দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি গত বছরে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি করেছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের আয় হয়েছে ৮৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১০ টাকা। অন্যদিকে ব্যয় হয়েছে দুই কোটি ৬৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৩৭ টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এই হিসাব জমা দেয়। ইসি সচিব মো. আলমগীর এটি গ্রহণ করেন। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই হিসাব দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও ইসির অনুমতি নিয়ে এবার তা এক মাস পরে জমা দিল বিএনপি।

ইসিতে জমা দেওয়া হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে নির্বাচন ও সভা-সমাবেশ বাবদ তাদের কোনো ব্যয় নেই। সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে বিভিন্ন দিবস পালন, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ বাবদ ব্যয় দেখিয়েছে বিএনপি। এ বিবরণ অনুযায়ী, অফিস স্টাফদের বেতন-ভাতা খাতে পাঁচ লক্ষাধিক এবং সেবা খাতের বিল বাবদ ৬০ হাজারের মতো টাকা বকেয়া রয়েছে।

আগের বছরের তুলনায় বিএনপির আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০১৮ সালে তাদের আয় ছিল প্রায় ১০ কোটি টাকা। এবারে আয় কমে নেমেছে এক কোটির নিচে। অবশ্য ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে উল্লেখযোগ্য আয় দেখিয়েছিল এ দল।

সর্বশেষ বছরে বিএনপির আয় ৮৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১০ টাকা। ব্যয় হয়েছে দুই কোটি ৬৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৩৭ টাকা। এখন তারা ঘাটতিতে রয়েছে এক কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ টাকা। অবশ্য ব্যয়ের মধ্যে ২০১৮ সালের কিছু খাতের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে বলে হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে মোট আয় ছিল ৯ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮০ টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছিল তিন কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ১৪৩ টাকা।

২০১৯ সালে বিএনপির ব্যয়ের মধ্যে কর্মচারীদের বেতন-বোনাস বাবদ ব্যয় হয়েছে ৭৫ লাখ ৬ হাজার ১০৭ টাকা। এখানে বকেয়া পরিশোধ দেখানো হয়েছে তিন লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা। কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ এখনও তাদের বকেয়া রয়েছে পাঁচ লাখ ১৪ হাজার ৯৫০ টাকা। এ বছর আসবাবপত্র ও প্রশাসনিক খরচ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৬ টাকা। টেলিফোন, ইন্টারনেট, কুরিয়ার সার্ভিস ও পত্রিকা বিল বাবদ ব্যয় হয়েছে সাত লাখ ১০ হাজার ১৩৭ টাকা। এ খাতে বিএনপি বকেয়া পরিশোধ করেছে ২৯ হাজার ৯২২ টাকা, এখনও বকেয়া রয়েছে ২৮ হাজার ১২৪ টাকা।

ইসিতে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দলটির প্রচার ও পরিবহন বাবদ ২১ লাখ ৮০ হাজার ২০০ টাকা, সাংগঠনিক কার্যক্রম বাবদ ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৫, বিজ্ঞাপন বাবদ ১৮ লাখ ৩০ হাজার, প্রকাশনা বাবদ আট লাখ ১২ হাজার ৭৮৪, জাতীয় ও বিভিন্ন দিবস উদযাপন বাবদ ২১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০, ত্রাণ কার্যক্রম বাবদ ১৮ লাখ ৮৪ হাজার ৭২৯, যাতায়াত বাবদ এক লাখ তিন হাজার ৩৬৭, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাবদ ২২ লাখ ৪১ হাজার ৬৪০, সেমিনার-ওয়ার্কশপ বাবদ ১২ লাখ ৪৩ হাজার, আপ্যায়নে প্রায় আট লাখ ৬১ হাজার ৫৬৫, স্থায়ী-অস্থায়ী সম্পদ কেনায় পাঁচ লাখ ৯০ হাজার ৬৯১, মেরামত ও সরবরাহ খাতে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৩৫ এবং অন্যান্য বাবদ সাত লাখ ১০ হাজার ৩২৮ টাকা ব্যয় হয়েছে।
এর আগে ২০১৭ সালে বিএনপির আয় ছিল ৯ কোটি ৪৬ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা। ব্যয় ছিল চার কোটি ১৯ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৪ টাকা। ওই বছর পাঁচ কোটি ২৬ লাখ ৫২ হাজার ৯৪৮ টাকা উদ্বৃত্ত ছিল তাদের।

২০১৬ সালে দলটির আয় ছিল চার কোটি ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ টাকা। আর ব্যয় হয় তিন কোটি ৯৯ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫২ টাকা। উদ্বৃত্ত ছিল ১৪ লাখ চার হাজার ৭৭৮ টাকা।

২০১৫ সালে তাদের আয় ছিল এক কোটি ৭৩ লাখ তিন হাজার ৩৬৫ টাকা। ব্যয় ছিল এক কোটি ৮৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৯ টাকা। ঘাটতিতে ছিল ১৪ লাখ ২৬ হাজার ২৮৪ টাকা।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব (অডিট রিপোর্ট) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অবশ্য কোনো দল চাইলে নির্ধারিত সময়ের আগে ইসিতে আবেদন করে সময় বাড়াতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি