রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০২:২২ অপরাহ্ন

মানব পাচারের অভিযোগে আটক মহিনের বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নোয়াখালী প্রতিনিধি : সম্প্রতি ঢাকায় র‌্যাবের হাতে আটক আর্ন্তজাতিক মানব পাচারকারীর অন্যতম সদস্য মহিন উদ্দিনের আটকের খবরে নিজ এলাকা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের করমূল্যাহপুর গ্রামে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তার সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এলাকার ভূক্তভোগী ও অত্যাচারিত বহু লোক তার আটকে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের করমূল্যাহপুর গ্রামের পাঠান বাড়ির মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মহিন উদ্দিন। ছোট বেলায় তার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর পাশবর্তী এক বাড়িতে বড় হয়। পাশবর্তী বাড়ির মৃত হাবিল মিয়ার ছেলে আবদুল হান্নান রাসেলের সাথে ছোটবেলা থেকে সখ্যতা গড়ে উঠে এবং দুইজনই কিশোর অপরাধের সাথে জড়িয়ে যায়।

এরপর দুইজনে এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের নেতৃত্ব দিতে থাকে। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে থাকে এলাকায়। এলাকায় ত্রাসের রাজস্ব কারে মহিন ও রাসেল। এক পর্যায়ে রাসেলের পরামর্শে মানবপাচারের খাতায় নাম লেখায় মহিন।

একলাশপুরের গোফরান নামের এক ব্যক্তির ঢাকাস্থ সুফি ট্রাভেল এজেন্সির সাথে এলাকার নিরীহ ও সহজ-সরল যুবকদের টার্গেট করে বিদেশে ভালো বেতনে চাকুরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার শুরু করে। এরপর লিবিয়া আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সাথে যুক্ত হয়। মহিন বাংলাদেশ থেকে ইটালি, কিংবা লিবিয়া থেকে ইটালি যেতে আগ্রহী যুবকদের টার্গেট করে আর্ন্তজাতিক মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দিত।

পরে ওইসব বাংলাদেশি যুবকদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত মহিন। মহিনের কাজ ছিল জিম্মি করে টাকা আদায় করা। এমনিভাবে মহিন হয়ে উঠে আর্ন্তজাতিক মানবপাচারকারী। গত কিছুদিন আগে লিবিয়ার ত্রিপলীতে মানবপাচারকারীর হাতে বাংলাদেশী ৪৩ যুবক খুন হওয়ার পর মানবপাচারকারী এই চক্রকে ধরতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হন্য হয়ে খুঁজছিল।

অবশেষে গত সপ্তাহে ঢাকার পুরানা পল্টন থেকে মহিন, সুফি ট্রাভেল এর মালিক গোফরানসহ ৫ পাচারকারীকে গ্রেফতার করে। এরপর গত বৃহস্পতিবার নোয়াখালী ডিবি পুলিশ মহিনের অপর দুই সহযোগি জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) ও মো.আনোয়ার হোসেনকে জিরতলী ইউনিয়ন থেকে গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে এই চক্রের এক মহিলা সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কবিরহাট উপজেলার বিবি কুলছুম নামের এক নারী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ করেন, তাঁর ভাই আলা উদ্দিন দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে লিবিয়ায় কর্মরত রয়েছেন। সেখানে তাঁর ভাইয়ের সাথে মহিনের পরিচয় হয়। মহিন তার ভাইকে ইতালি নেয়ার জন্য প্রলুব্ধ করেন। এতে তার ভাই রজি হন।

বিবি কুলছুম অভিযোগ করেন, গত জুন মাসে মহিন তাদের ফোন করে জানায়, তাঁর ভাই আলাউদ্দিনসহ নোয়াখালীর ১৪-১৫জন লোক ইতালি যাওয়ার পথে স্থানীয় মাফিয়া চক্রের হাতে আটক হয়েছে। তাই তাকে ছাড়িয়ে নিতে জরুরি ভিত্তিতে জনপ্রতি ছয় লাখ টাকা করে দিতে হবে, তা না হলে তাদের মেরে লাশ সাগরে ভাসি দেয়া হবে। মহিনের কাছ থেকে দফায় দফায় ফোন পাওয়ার পর তার দেয়া বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে তারা ধারদেনা করো সাড়ে তিন লাখ টাকা পাঠান। এরপর মহিন আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকলে উপয়ান্তর না দেখে নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে এ ঘটনায় কবিরহাট থানায় গত ৫ আগস্ট একটি মামলা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি