বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
সৌদির বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ: ১৩৫ ফ্লাইটের ২০ হাজারের ৬৭২ যাত্রী ভোগান্তিতে আইনের শাসনে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ উচ্চতর গ্রেডের বৈষম্য দূর করতে সরকারকে দুই মাসের সময় দিলেন মাধ্যমিক শিক্ষকরা পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ৬ বরকতময় ফল শাবানা কেন অভিনয় ছেড়েছিলেন হাঁটুব্যথায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন কী, কতটা উপকারী শ্যামনগরে সুন্দরবন উপকূলে ২১০টি ম্যানগ্রোভের চারা রোপণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ‘বাধা উপেক্ষা করে’ আমির হামজার তাফসির মাহফিল সম্পন্ন আসামে দুই দিনে বাংলাভাষী মুসলিমদের ১১ শতাধিক বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিল সরকার ভৈরবে ফিরছে বিতর্কচর্চার সুদিন

বিমানের ভেতরে যে আচরণ করা যাবে না

আকাশপথে ভ্রমণ অনেকের কাছেই যেমন প্রয়োজন, তেমনি অনেকে এটি উপভোগও করেন।

তবে আকাশ ভ্রমণের পুরোটা আরামদায়ক হবে কি-না, তা নির্ভর করে ভ্রমণকারীদের আচরণ এবং নীতিনিয়ম মানার ওপর।

বিমানের ভেতরে সীমিত জায়গা, ভিড়, নিরাপত্তা ও সময় রক্ষার মতো বিষয়গুলো যাত্রীদের সচেতন ভাবে মানা উচিত।

সংযত আচরণ: বিমানসেবীদের স্পর্শ থেকে বিরত

বিমানের ভেতরে প্রতিটি মুহূর্তেই বিমানসেবীরা ব্যস্ত থাকেন নানা দায়িত্বে। খাবার পরিবেশন, পানীয় সাজানো, যাত্রীসহায়তা, নিরাপত্তা তদারকি ইত্যাদি।

মার্কিন বিমানসেবী আইডেন রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “কাউকে ডাকতে বা কোনো অনুরোধ জানাতে কখনই শারীরিক স্পর্শ ব্যবহার করা উচিত নয়। বিমানে যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়াতে হঠাৎ স্পর্শ বিমানসেবীদের জন্য অপ্রস্তুতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সামান্য ডাকা বা মুখে সম্বোধন করলেই তারা সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকেন। ভদ্রতা বজায় রাখাই এখানে সবচেয়ে বড় শিষ্টাচার।”

বোর্ডিংয়ের পরই শৌচাগারে যাওয়া অনুচিত

বিমানে ওঠার পরপরই অনেকে শৌচাগারের দিকে ছুটে যান। তবে এটি যাত্রা শুরুর জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।

আইডেনের ভাষায়, “বোর্ডিং চলাকালে বিমানসেবীরা গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করেন। এসবের মাঝে যাত্রীদের শৌচাগারের সারি আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। তাছাড়া যাত্রীরা বোর্ডিংয়ের আগে বিমানবন্দরের শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ পান। তাই বিমানে ওঠার পরপরই শৌচাগারে না যাওয়া শ্রেয়।”

পথচলতি জায়গা বন্ধ না করা

বিমানের ভেতরে চলার পথ খুবই সংকীর্ণ। অনেক সময় যাত্রীরা হাত, পা বা পায়ের গোড়ালি সামান্য বের করে বসে থাকেন, যা বিমানসেবীদের চলাচলে বাধা তৈরি করে। স্বভাবতই বিমানসেবীদের বিভিন্ন সময়ে পুরো কেবিনে হাঁটতে হয়- খাবার দেওয়া, গায়ে গরম কম্বল সরবরাহ, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ইত্যাদির জন্য।

চলার পথ আটকে দিলে শুধু কাজেই সমস্যা হয় না, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই নিজেদের আসনের জায়গা সংবেদনশীলভাবে ব্যবহার করা উচিত।

নামার সময় সামনে দৌড়ে যাওয়া— অসভ্যতার পরিচয়

বিমানে পৌঁছানোর পর অনেকেই অস্থির হয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে চান। তবে সবারই গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া থাকে।

তাই নিজের আসন ছেড়ে সামনে দৌড়ে যাওয়া অন্যদের প্রতি অসম্মানজনক।

বিমান যখন গেটের কাছে পৌঁছায়, নিয়ম অনুযায়ী সামনে থেকে পেছনের দিকে আসন ধরে ধরে যাত্রীরা নেমে যান। ভদ্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার এই নিয়মই সবার যাত্রাকে সহজ করে।

বিমানসেবীদের নির্দেশনা না মানা উচিত নয়

বিমানের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিমানসেবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ধারণা থাকলেও তারা শুধু খাবার বা পানীয় সরবরাহ করেন না বরং জরুরি চিকিৎসা, আগুন লাগা, যান্ত্রিক ত্রুটি, দরজা পরিচালনাসহ অসংখ্য বিষয়ে তারা প্রশিক্ষিত হয়ে থাকেন।

তাই কোনো নির্দেশনা পেলে তা মেনে চলা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।

অন্যের জায়গায় পা তুলে রাখা একেবারেই অনুচিত

একই প্রতিবেদনে শিষ্টাচার-বিষয়ক মার্কিন কুশলী জেনি ড্রেইজেন বলেন, “বিমানভ্রমণে দীর্ঘসময় বসে থাকতে হয় বলে অনেকেই পা ছড়িয়ে দিতে চান। তবে অন্যের হাত রাখার জায়গায় পা তুলে দেওয়া অত্যন্ত অশোভন আচরণ। এমন ব্যবহার অন্যযাত্রীকে বিরক্ত করে।”

ভ্রমণে অস্বস্তি থাকলেও অন্যের আরাম নষ্ট করা বা তাকে বিব্রত করা শিষ্টাচার নয়। তাই পায়ে সমস্যা হলেও এমন কাজ করা যাবে না।

নগ্ন পা নিয়ে হাঁটা বা বসা বাড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি

বিমানের মেঝে সবসময় সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকে না। নোংরা জুতা, খাবারের টুকরো, পানীয় ছিটে যাওয়া এসব মিলিয়ে মেঝেতে জীবাণুর সম্ভাবনা থাকে।

পা খোলা রেখে হাঁটলে সংক্রমণঝুঁকি বাড়ে। তাছাড়া অন্য যাত্রীরা অস্বস্তি অনুভব করেন- মন্তব্য করেন, জেনি।

আসন হেলানো যাবে, তবে সচেতনভাবে

দীর্ঘ যাত্রায় আসন কিছুটা হেলিয়ে আরাম নেওয়া স্বাভাবিক। তবে ধীরে হেলিয়ে নেওয়া এবং পেছনের যাত্রীকে আগে থেকে অবগত করা ভদ্রতার অংশ।

জেনি ড্রেইজেনের ভাষায়, “কারণ অনেকের সামনে খাবার বা যন্ত্রপাতি থাকতে পারে। হঠাৎ হেলালে পানীয় পড়ে যাওয়া বা আঘাত লাগার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।”


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: