শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ ১১ দলের ৭ দফা দাবি কোটি মানুষের প্রাণের দাবি: কুষ্টিয়ায় মোবারক হোসাইন বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বলেছে, ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দারিদ্র্য কমাতে ভূমিকা রাখবে: অর্থ উপদেষ্টা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় জামায়াতও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে: শফিকুর রহমান রাজনৈতিক অবস্থানের মূলকথা তুলে ধরলেন মামুনুল হক জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে থাকলে একটি পরিবারও অবহেলিত থাকবে না: এমপি মাসুদ হেফাজতের নেতৃত্বে ঐক্য প্রক্রিয়ায় মতবিরোধ, সন্দেহ কেন জামায়াতের জবিতে রসায়ন অলিম্পিয়াডে নিবন্ধনের সময় বাড়ল চেক ডিজঅনার মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার স্নাতক অন্য বিষয়ে, তবু মাধ্যমিকে ইংরেজি-গণিত পড়ান ২০ হাজারের বেশি শিক্ষক

তীব্র শীতে দরিদ্রদের মাঝে পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ জরুরি

শীতে রাজধানীসহ সারা দেশ কাঁপছে। শীতের তীব্রতায় উত্তর জনপদে জনজীবনে নেমে আসছে দুর্ভোগ। ঘন কুয়াশায় ঢাকা
পড়েছে জেলার জনপদ।

দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়কগুলোতে চলছে যানবাহন। কনকনে শীতে বিপাকে পড়েছেন খেটে-খাওয়া মানুষ। নদীর তীরবর্তী অববাহিকায় বসবাস করা শিশু-বৃদ্ধদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। শীতে বিপর্যস্ত রাজধানীর নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন। হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বের হয়েও অনেকের মিলছে না কাজ। ঘন কুয়াশা আর বাতাস শীতকে আরও প্রবল করেছে। বিশেষ করে, ঢাকায় দিনমজুর-নিম্ন আয়ের মানুষের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। বস্তুত তীব্র শীতের কারণে সারা দেশের নিম্ন আয়ের মানুষকেই খুব কষ্টে দিনযাপন করতে হচ্ছে। শীত নিবারণের সুযোগ ও সামর্থ্য যাদের কম, তারা কম শীতেও কাবু হয়ে পড়ে। এছাড়া পুষ্টিহীনতার কারণে হতদরিদ্রদের মধ্যে অনেকের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম। ফলে তারা শীতজনিত বিভিন্ন রোগে সহজেই আক্রান্ত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীত মৌসুমে কয়েক ধরনের ভাইরাস অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাতে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। শহরাঞ্চলের বাইরে গ্রামীণ এলাকায় শীতের তীব্রতা বেশি। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় কোনো কোনো এলাকার মানুষ অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতের কারণে সারা দেশের নিম্নআয়ের মানুষকে খুব কষ্টে দিনযাপন করতে হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নানা রকম আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

কিন্তু আমাদের দেশে দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের ঘরবাড়ি এতই নাজুক যে তা শীত ঠেকাতে পারে না। শীত নিবারণের সুযোগ ও সামর্থ্য যাদের কম, তারা কম শীতেও কাবু হয়ে পড়ে। ছিন্নমূল মানুষের পক্ষে শীতবস্ত্র ও লেপ-কম্বল কিনে শীত নিবারণ করা সম্ভব হয় না। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলেও দুঃখজনক হলো, শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে কম। আজকাল শহর-গ্রাম- গঞ্জের গরিব-দুঃখী মানুষের খোঁজখবর রাখার মতো মানুষের সংখ্যা কমে গেছে। একসময় শিক্ষার্থীদের মাঝে দুস্থদের জন্য ত্রাণ বিতরণের তাগিদ দেখা যেত। এখন এ ধরনের মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও ভাটা পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দরিদ্রদের মধ্যে শীতবস্ত্র, খাদ্য ও ওষুধসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। হাড়কাঁপানো শীতে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ যাতে আর না বাড়ে, সেজন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিতে হবে। রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উচিত অতীতের মতোই দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো ।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: