মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ট্রলারের জালে একবারেই ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ। প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ নিয়ে মহিপুর মৎস্যবন্দরে ফিরেছে ট্রলারটি। পরে নিলামে মাছগুলো বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।
হঠাৎ একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় দীর্ঘদিন পর উপকূলের জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও আশার সঞ্চার।
ট্রলারটির মালিক ও জেলে আলমগীর হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তাঁর মালিকানাধীন এফবি জুনাইদ ট্রলারে জাল ফেললে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। তিনি নিজেও তখন ট্রলারে ছিলেন। পরদিন শুক্রবার দুপুরে ইলিশবোঝাই ট্রলারটি মহিপুর মৎস্যবন্দরে পৌঁছায়। পরে মনোয়ারা ফিশ নামের একটি আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়।
আলমগীর হোসেন বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, একবার জাল ফেলেই প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ ধরা পড়া বড় আনন্দের খবর। দীর্ঘদিনের লোকসান এই মাছের আয় দিয়ে কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা করছেন তিনি।
মনোয়ারা ফিশের ব্যবস্থাপক সগির আকন জানান, ধরা পড়া ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের মাছ ছিল ২৪ মণ। এগুলো প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজি ২ হাজার ৮৭৫ টাকা দরে কেনা হয়েছে। ২৪ মণ ইলিশের মোট দাম দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের আরও ২২ মণ ইলিশ ছিল। এসব মাছ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা দরে কেনা হয়েছে। এর মোট মূল্য ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
দুই ধরনের ইলিশ মিলিয়ে ৪৬ মণ মাছের মোট দাম হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সগির আকন বলেন, এ বছর ইলিশের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বাজারে দাম ভালো থাকায় একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের জন্য বেশ লাভজনক হয়েছে।
তবে একদিনে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়লেও এটিকে সাগরে ইলিশের প্রাচুর্যের নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, একসঙ্গে এত ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা সাগরে দিনরাত মাছ শিকার করা জেলেদের মধ্যে অবশ্যই আশার সঞ্চার করবে। তবে একটি দিনের মাছ ধরার পরিমাণ দিয়ে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ইলিশের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা বাড়ানো, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
কলাপাড়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সাগরে ইলিশের প্রাপ্তিতে ঘাটতি রয়েছে। তবে জেলেদের জালে কমবেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, ইলিশের পরিমাণ বাড়লে জেলে, আড়তদারসহ এই মাছের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।