বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কোন ১০টি সাপ ও এর কতগুলো বিষধর?

প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের একটি লাল তালিকার তথ্যানুযায়ী, এই বদ্বীপ অঞ্চলে প্রায় একাশী প্রজাতির সাপের অস্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু সাপ অত্যন্ত দুর্লভ হলেও নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতি দেশের নানা প্রান্তে বেশ সকালেই মানুষের চোখে পড়ে। পরিবেশগত বৈচিত্র্য এবং প্রজনন অনুকূল পরিবেশের কারণে এই নির্দিষ্ট প্রজাতিগুলোর উপস্থিতি অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশি লক্ষ্য করা যায়।

আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সচরাচর দৃশ্যমান এমন দশটি প্রধান সাপের প্রজাতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকাটিতে যেমন সম্পূর্ণ বিষহীন ও নিরীহ প্রজাতির সাপ রয়েছে, তেমনই মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অত্যন্ত বিষধর কিছু সাপের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যেই এই তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে সাপ সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা সম্ভব হয়।

চিহ্নিত হওয়া এই দশটি বহুল দৃশ্যমান সাপের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রজাতি সম্পূর্ণ বিষহীন হওয়ায় সেগুলো মানুষের বড় কোনো ক্ষতির কারণ হয় না। এই নির্বিষ সাপগুলো সাধারণত প্রকৃতিতে ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে না জেনেই অনেক সময় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে এই উপকারী প্রাণীগুলোকে নির্বিচারে হত্যা করে ফেলে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

অন্যদিকে, বহুল দেখা মিল ১০টি প্রজাতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশে রয়েছে অত্যন্ত বিষাক্ত ও প্রাণঘাতী সব সাপ। এসব বিষধর সাপের কামড়ে প্রতি বছর দেশে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তাই বন্যপ্রাণী ও সরীসৃপ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং এদের উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: