বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
নওগাঁর একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া শাকিল হোসেন আজন্ম দৃষ্টিহীন হওয়ার পরও নিজের মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। জীবনের প্রতিটি ধাপে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও তিনি শিক্ষাজীবন সফলভাবে শেষ করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় একটি উপযুক্ত কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া। দৃষ্টিহীনতার কারণে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির জন্য আবেদন করেও দীর্ঘদিন কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি।
চাকরি না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন এই মেধাবী তরুণ। অবশেষে তার এই দীর্ঘ সংগ্রামের কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হয়। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে শাকিলের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগের ফলে অবসান ঘটে শাকিলের দীর্ঘ বেকারত্ব ও অনিশ্চিত অপেক্ষার পালা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের সার্বিক সহযোগিতায় শাকিল হোসেনের চাকরির বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। এর অংশ হিসেবে তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী তরুণের কর্মসংস্থানের স্থায়ী সুব্যবস্থা করা হলো, যা সমাজের অন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে থাকবে।
সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শাকিল হোসেনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। ওই সময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত এই কর্মকর্তাকে অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর একান্ত সচিব জাহেদুল আলম। নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর শাকিল আনন্দ প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।