বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

বৈদ্যুতিক ট্রেন ও গাবতলী-দাশেরকান্দি মেট্রোসহ একনেকে উঠছে ১৬ প্রকল্প

দেশে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ঐতিহাসিক উদ্যোগসহ বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গণপরিবহনে স্বস্তি আনতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সর্বমোট ১৬টি নতুন ও সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সম্প্রতি সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসনের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার ৫এর বেশি কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ বৈদেশিক ঋণ থেকে জোগান দেওয়া হবে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলরুটে আধুনিক বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচল করবে, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। এই বিশেষ প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থায়ন আসছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা থেকে। এছাড়া, রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করতে এমআরটি লাইন-৫ এর দক্ষিণ রুট বাস্তবায়নও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। এর মাধ্যমে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত একটি আধুনিক মেট্রো নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যা রাজধানী ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের যাতায়াত ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে।

এমআরটি লাইন-৫ এর দক্ষিণ রুট প্রকল্পের অধীনে রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত মোট ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত প্রায় তেরো কিলোমিটারের বেশি অংশ মাটির নিচ দিয়ে পাতাল রেল হিসেবে চলবে এবং হাতিরঝিল অংশটি টানেলের মধ্য দিয়ে নির্মিত হবে। অন্যদিকে, আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বাকি চার কিলোমিটারের বেশি অংশ উড়ালপথে পরিচালিত হবে এবং পুরো রুটে মোট পনেরোটি অত্যাধুনিক স্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রায় সাড়ে পঁয়তাল্লিশ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল ব্যয়ের প্রকল্পটিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল যৌথভাবে অর্থায়ন করবে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের মতে, এই মেট্রো লাইন চালু হলে নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।

পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের বাইরেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প একনেক সভায় উত্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের বিভিন্ন জেলা মহাসড়ক মানসম্মত ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ, বস্ত্র ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা এবং মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ প্রকল্পও পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে। নদী ভাঙন রোধ, বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও এবারের একনেক সভার এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: