বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর বংশাল থানাধীন চানখাঁরপুলের কায়েতটুলি এলাকার একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত অনিক চন্দ্র পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তার গ্রামের বাড়ি সিলেটে। সম্প্রতি রাতে মেসের নিজ কক্ষ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই আকস্মিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এবং শিক্ষার্থীর নিজ পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ঘটনার দুদিন আগ থেকেই অনিকের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তার মেসমেট ও সহপাঠীরা। ঘটনার রাতে এক ব্যাচমেট তাকে ফোনে না পেয়ে মেসে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন এবং এরপরেই বন্ধুরা মিলে তার কক্ষের সামনে যান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ধরে দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। একপর্যায়ে তারা জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে দেখেন যে ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচানো অবস্থায় অনিকের ঝুলন্ত দেহ ঝুলে আছে।
সহপাঠী ও মেস সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর ঠিক কিছুদিন আগে প্রেমিকার সঙ্গে অনিকের বিচ্ছেদ ঘটেছিল এবং এর পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি মেসে অনেকটাই একা ও চুপচাপ থাকতেন বলে জানিয়েছেন তার বন্ধুরা। এমনকি এই ঘটনার সময় তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ এবং ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছেন তারা। তবে ব্যক্তিগত এই জটিলতার সঙ্গে তার আত্মহনন বা মৃত্যুর ঘটনার কোনো সরাসরি সংযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষার্থীরা তাকে বিষয়টি জানানোর পরপরই তিনি হাসপাতালে পৌঁছান, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার আগেই ওই শিক্ষার্থীর জীবন প্রদীপ নিভে যায়। ইতোমধ্যে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তার বাবার সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় পৌঁছানোর পর সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ তাদের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তরুণ এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে অনিকের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পেছনের আসল কারণ উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।