বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন
দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করে তুলতে তিনটি নতুন মেট্রোরেল প্রকল্পসহ মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের এই অনুমোদনের ফলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনদুর্ভোগ লাঘবে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুমোদিত এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রাজধানীর জনবহুল পথগুলোতে মেট্রো রেলের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো যানজট নিরসন করে নগরবাসীকে দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত সুবিধা উপহার দেওয়া। দীর্ঘমেয়াদী এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যামের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, প্রতিটি মেট্রোরেল রুটে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
মেট্রোরেল ছাড়াও এই ১২টি প্রকল্পের আওতায় দেশের অন্যান্য খাতের উন্নয়নেও ব্যাপক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জনসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে এই বৈঠকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে এসব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজগুলো শেষ হলে সাধারণ মানুষ দ্রুত এর সুফল ভোগ করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একনেকের এই বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকারের এই মেগা প্রকল্পগুলোর অনুমোদন প্রমাণ করে যে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম থেমে নেই। এখন সঠিকভাবে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজের প্রতিটি ধাপে কঠোর মনিটরিং করা হবে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দীর্ঘসূত্রিতা না ঘটে।