বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

আবুল বারকাতের ৪৯ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক, গাড়ি-ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার নামে থাকা প্রায় ৪৯ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দেন। এর পাশাপাশি তার একটি গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবের সমস্ত অর্থও অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক এই আইনি পদক্ষেপ অনুমোদন করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই আবেদনটি করা হয়েছিল।

দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক এই ক্রোক ও ফ্রিজের আবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও কোম্পানিগুলোকে অবৈধভাবে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এই ব্যাংক কর্মকর্তা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে প্রায় ৪৯ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি তিন কোটি টাকারও বেশি অঙ্কের অস্থাবর সম্পদ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমণ্ডি এলাকায় অবস্থিত দুটি ফ্ল্যাট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে করা নির্দিষ্ট কিছু বিনিয়োগ। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত প্রায় ২৯ লাখ টাকা মূল্যের গাড়িটিও এই আদেশের আওতায় আনা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার অবৈধভাবে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদগুলো গোপনে বিক্রি কিংবা অন্য কারো নামে হস্তান্তরের পাঁয়তারা করছেন। আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই যদি এসব সম্পত্তি হস্তান্তর বা রূপান্তর করা হয়, তবে রাষ্ট্র বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালার যথাযথ ধারা প্রয়োগ করে সম্পত্তিগুলো দ্রুত সুরক্ষার প্রয়োজন দেখা দেয়। আদালত সব দিক বিবেচনা করে দুদকের এই আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং সম্পত্তি হাতবদল রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত বছর জুলাই মাসে রাজধানীর ধানমণ্ডির একটি বাসা থেকে দুদকের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই মামলায় জামিন লাভ করার পর তাকে জুলাই গণআন্দোলন কেন্দ্র করে দায়ের করা অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সেই মামলায়ও জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন। তবে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক এই আদালতের আদেশের ফলে তার স্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত হলো।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: