বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

দুই কোটি টাকার গাড়ি না কিনে কৃষকদের টাকা দিলেন অভিনেতা, কেন?

বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকারকে নিয়ে চলচিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নানা ধরনের গুঞ্জন ও রাগী স্বভাবের গল্প প্রচলিত রয়েছে। তবে পর্দার বাইরের এই তারকা অভিনেতা যে অত্যন্ত মানবিক ও সংবেদনশীল মনের অধিকারী, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি চিত্রনাট্যকার রণবীর পুষ্প সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানার এমনই এক অজানা ও অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় সবার সামনে তুলে ধরেছেন। ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যবসাসফল ‘অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমায় নানার সঙ্গে কাজের সুবাদে তার ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের ধরন খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল রণবীরের।

ওই সাক্ষাৎকারে রণবীর পুষ্প জানান, অভিনেতা প্রযোজকদের আর্থিক ক্ষতি করেন বলে যে বদনাম নানার নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, একবার বিশাল অংকের অর্থ খরচ করে একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন এই অভিনেতা। ঠিক সেই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র খরা ও ঋণের দায়ে বিপর্যস্ত কৃষকদের আত্মহত্যার মর্মান্তিক খবর তার নজরে আসে। বহু কৃষকের পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে—এই তথ্য জানার পর তিনি নিজের ব্যক্তিগত বিলাসিতার ইচ্ছা মুহূর্তেই বিসর্জন দেন।

গাড়ি কেনার জন্য জমিয়ে রাখা দেড় কোটি টাকার মতো বিশাল সেই অর্থ নিজের কাজে ব্যবহার না করে সম্পূর্ণটাই অসহায় কৃষক পরিবারগুলোর কল্যাণে দান করার সিদ্ধান্ত নেন নানা পাটেকার। পরবর্তীতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তার এক বিশ্বস্ত বন্ধুর মাধ্যমে কৃষক আত্মহননে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করা হয় এবং তাদের হাতে ১৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, দুর্দশাগ্রস্ত কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে অভিনেতা ‘নাম’ নামের একটি সেবামূলক সংস্থাও প্রতিষ্ঠা করেছেন, যার মাধ্যমে নিয়মিতভাবে তহবিল সংগ্রহ করে চাষীদের পাশে দাঁড়ানো হয়।

অন্যদিকে, নানার রাগী ব্যক্তিত্ব প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রণবীর একটি বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ করেন যা সাধারণ মানুষকে পরিবেশ সচেতনতা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। একবার এক পথচারীকে চলন্ত গাড়ি থেকে ময়লা বা প্লাস্টিকের বোতল বাইরে ফেলতে দেখে নিজের গাড়ি থামিয়ে দেন অভিনেতা এবং ওই বোতলটি নিজেই কুড়িয়ে নেন। পরবর্তীতে ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি থামলে তিনি ওই চালককে বুঝিয়ে বলেন যে দেশ পরিষ্কার রাখার মূল দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, বরং প্রতিটি সচেতন নাগরিকেরই ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার নৈতিক কর্তব্য রয়েছে।

এছাড়া, নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন ও সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও কথা বলেছেন ওই চিত্রনাট্যকার। ‘অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় নানার সঙ্গে অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অতীতে নানা গুঞ্জন রটেছিল। তাদের সম্পর্কটি নিখাদ বন্ধুত্ব নাকি প্রেমের সম্পর্ক ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু না বললেও রণবীর উল্লেখ করেন যে দুজন একে অপরকে গভীরভাবে বুঝতে পারতেন এবং শুটিংয়ের আগে নিজেদের অভিনয় ও দৃশ্য নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতেন। ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ ও ‘যুগপুরুষ’-এর মতো চলচ্চিত্রে এই জুটি দর্শকদের হৃদয়ে দারুণ সাড়া ফেলেছিল।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: