শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ওই নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রদলের কতিপয় নেতাকর্মী অতর্কিতভাবে দুই সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হন। ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আকস্মিক এই হামলার ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা ওই সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় পড়েন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এমন শারীরিক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, ছাত্র সমিতির মতো একটি গণতান্ত্রিক ও সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের শক্তি প্রদর্শন ও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি যাতে আর অবনতির দিকে না যায়, সেজন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, এই অনভিপ্রেত ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাস এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।