শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
সিলেটের আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার শরিফের রক্ষণাবেক্ষণ ও তহবিলের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এর দানবাক্স ও ডেগগুলো খোলা হয়। সম্প্রতি কড়া নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে থাকা এই বাক্স ও ডেগগুলোর তালা খোলা হয়। প্রতিবারই এসব স্থান থেকে সাধারণ মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র পাওয়া যায়, যা মাজারের সামগ্রিক পরিচালনা ও উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা মাজারে এসে নগদ টাকা ছাড়াও নানা ধরনের মূল্যবান সামগ্রী দান করে থাকেন। এবার মাজারের ভেতরে থাকা নির্দিষ্ট তিনটি ডেগ এবং পাঁচটি বড় দানবাক্স একসঙ্গে খোলার পর সেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থের সমাগম দেখা যায়। গণনা শেষে জানা গেছে, এই বাক্স ও ডেগগুলো থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ৮৯ লাখ টাকা পাওয়া গেছে, যা আগের বিভিন্ন সময়ের তুলনায় বেশ বড় অঙ্কের একটি তহবিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নগদ টাকার পাশাপাশি মাজারের দানবাক্সগুলোতে প্রচুর পরিমাণ সোনা ও রুপার অলংকার পাওয়া গেছে। প্রতিবারের মতো এবারও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা বা বৈদেশিক মুদ্রার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, যা প্রমাণ করে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক ও ভক্ত প্রতিদিন এই মাজারে আসেন। গণনার পর প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রাগুলোর মধ্যে অন্তত ১৫টি ভিন্ন দেশের কারেন্সি বা নোট শনাক্ত করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ব্যাংকিং নিয়মের মাধ্যমে টাকায় রূপান্তর করা হবে।
মাজারের সিন্দুকে জমাকৃত এই অর্থ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী গণনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গণনা শেষে প্রাপ্ত সমস্ত নগদ টাকা ব্যাংকে মাজারের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার মতো মূল্যবান সামগ্রীগুলো যথাযথ নিরাপত্তার সঙ্গে সংরক্ষণাগারে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে।