সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যহারে বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি যৌথ বিজনেস-টু-বিজনেস বা বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রসঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি সামনে এনেছে ভারতীয় পক্ষ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের একটি বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্ম গঠিত হলে দুই দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোগগুলো আরও বেশি গতিশীল হবে এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের উপ-হাইকমিশনার পবন কুমার তুলশিদাস বাধে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ও অশুল্ক বাধাগুলো অবিলম্বে কমিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের জটিলতাগুলো দূর করা গেলে উভয় দেশের উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ চলমান থাকলেও বেশ কিছু পদ্ধতিগত ও কাঠামোগত সমস্যা দুই দেশের বাণিজ্যের পূর্ণ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। উপ-হাইকমিশনার পবন কুমার তুলশিদাস বাধে উল্লেখ করেন যে, এই বাধাগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের যোগাযোগ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সীমান্তে পণ্যের জট কমার পাশাপাশি পরিবহন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত বিটুবি টাস্কফোর্স কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যিক ব্যবধান কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস এবং যৌথ বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে এই টাস্কফোর্সের রূপরেখা কেমন হবে এবং এর কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে উভয় দেশের নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো শিগগিরই আলোচনা শুরু করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।