সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
জাতীয় বেতন স্কেল বা পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পর রাজধানী ঢাকার খুচরা বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কোনো ধরনের তাৎক্ষণিক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল নতুন পে-স্কেল আসার পর বাজারে তার একটি সুফল পড়বে এবং জিনিসপত্রের দাম কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে বাস্তবে ক্রেতারা বাজারে এসে দেখতে পেয়েছেন যে, তাদের সেই প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির কোনো মিল নেই এবং পণ্যের দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে যে, চাল, মসুর ডাল, ব্রয়লার মুরগি, ডিম, চাষের মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির দাম আগের উচ্চ পর্যায়েই স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা আগের কেনা দাম ও সরবরাহের অজুহাত দেখিয়ে কোনো পণ্যেরই দাম কমাননি, বরং ক্রেতাদের পকেট থেকে আগের মতোই বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ ও নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিজীবীরা নতুন পে-স্কেলের সুফল ভোগ করার আগেই নিত্যপণ্যের চড়া দামের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
নিত্যপণ্যের এই বাজারদর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অধিকাংশ ক্রেতা অভিযোগ করেছেন যে, বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ধরনের স্বস্তির পরিবেশ নেই। তাদের মতে, সরকারি সিদ্ধান্তের সুফল বাজারে পৌঁছাতে সময় লাগলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে পণ্যের দাম সবসময় উর্ধ্বমুখী করে রাখেন। বাজারে কার্যকর তদারকি ও কঠোর নজরদারির অভাবে সাধারণ ভোক্তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু পে-স্কেল বা প্রজ্ঞাপন জারি করলেই বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে না, যদি না সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা যায় এবং সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হয়। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই। সাধারণ consumers বা ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘব করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অবিলম্বে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।