সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে প্রতি লিটারে বিশ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পরপরই গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি উঠেছে। জ্বালানি খরচের এই হঠাৎ উল্লম্ফন সামগ্রিক পরিবহন খাতের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করছেন মালিকপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৮ থেকে ২০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন পরিচালনা ব্যয় ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় মালিকরা এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজেল ও পেট্রলের দাম বৃদ্ধির পর আগের ভাড়ায় বাস চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। প্রতিটি ট্রিপে লভ্যাংশ তো দূরের কথা, দৈনিক অপারেশনাল খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবহন ব্যবসায়ীদের। তাই ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে ভাড়ার হার কিছুটা হলেও বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করছেন।
পরিবহন মালিক সমিতির নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকে বসার তাগিদ দিয়েছেন। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর থেকেই লোকসানের মুখে পড়ে অনেক রুটে বাস চলাচল সীমিত করার কথা ভাবছেন মালিকরা। এই সংকট নিরসন না হলে ভবিষ্যতে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
এদিকে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে এই সম্ভাব্য ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বাসের ভাড়া আরও বাড়লে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের নীতিনির্ধারক মহল পরিবহন মালিকদের এই প্রস্তাব কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা করে কী ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।