মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে কুষ্ঠরোগ মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সম্প্রতি একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে এই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দেশের জনস্বাস্থ্য খাতকে আরও উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই সংক্রামক রোগটি দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং দুর্গম অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা পেলে কুষ্ঠরোগ সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশজুড়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রচার চালানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে, কুষ্ঠরোগ নিয়ে সমাজে এখনও অনেক কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে, যা দূর করা অত্যন্ত জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে দূরে না ঠেলে তাদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবার আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সরকারের এই নতুন অঙ্গীকার অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায় যে, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ জোরদার করার মাধ্যমে রোগ শনাক্তকরণের হার আরও বাড়ানো হবে।
সবশেষে, দেশের সাধারণ মানুষকে এই মারাত্মক রোগ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাংলাদেশকে কুষ্ঠমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে আরেকটি বড় সাফল্য অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।