মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পেলেও দেশীয় বাজারে তার সুফল সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাধারণত সেভাবে পান না। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলে দেশে মুহূর্তেই তা সমন্বয় করা হলেও, দাম কমলে সেই অনুপাতে কমানোর ক্ষেত্রে নানা দীর্ঘসূত্রতা লক্ষ্য করা যায়। এই বৈপরীত্যের কারণে দেশের অর্থনীতিতে জ্বালানি খরচ সংক্রান্ত চাপ থেকেই যায়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বহু বছর ধরে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা চলছে।
বাস্তবসম্মতভাবে দেশের জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি মূলত সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করে। ঠিক কোন কোন আর্থিক মানদণ্ড, আমদানি ব্যয়, এবং অভ্যন্তরীণ কর কাঠামো বিবেচনা করে তেলের মূল্য নির্ধারণ বা সমন্বয় করা হয়, তা নিয়ে জনমনে প্রায়শই নানামুখী কৌতূহল দেখা যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথা বিপিসির বিগত বছরের লোকসান বা লাভের হিসাব এখানে একটি বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।
অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটিক ফর্মুলায় নিয়মিত দাম সমন্বয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার সঠিক সুফল সাধারণ ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যাহত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের বড় পতনও দেশের বাজারে খুব একটা বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে না।
জ্বালানি তেলের দামের এই অসঙ্গতির কারণে দেশের পরিবহন খাত, কৃষি উৎপাদন এবং সামগ্রিক শিল্পায়ন সরাসরি প্রভাবিত হয়। জ্বালানির দাম বেশি থাকার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই জনস্বার্থে জ্বালানি আমদানির প্রকৃত খরচ ও মূল্য নির্ধারণের ফর্মুলা আরও জনমুখী ও স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকরা।