বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

সরকারি হাসপাতালের সামনে ক্লিনিকের অনুমোদন নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ রোগীদের হয়রানি কমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে দেশের কোনো সরকারি হাসপাতালের আশপাশে নতুন করে কোনো প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স বা অনুমোদন দেওয়া হবে না।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, সরকারি হাসপাতালের মূল ফটক বা ঠিক সামনে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা ক্লিনিকগুলো প্রায় সময়ই রোগীদের নানাভাবে জিম্মি করে থাকে। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিজেদের ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের মতো অনিয়মের অভিযোগ বহু পুরানো। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে এই ধরনের অনৈতিক বাণিজ্য বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের এই শীর্ষ নীতিনির্ধারক আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ যেন নামমাত্র খরচে ও সহজে সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা বাড়াতে এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে এই ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। এর ফলে চিকিৎসা সেবায় স্বচ্ছতা ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যেই যেসব অবৈধ বা অনুমোদনহীন ক্লিনিক সরকারি হাসপাতালের কাছাকাছি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সরকারের এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একইসঙ্গে চিকিৎসাসেবা খাতের অনিয়ম রোধে সরকারের এমন তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: